Logo

বিশ্বকাপ বয়কট করলে আর্থিক ক্ষতি হবে বাংলাদেশ ও আইসিসির

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১৫:৩১
বিশ্বকাপ বয়কট করলে আর্থিক ক্ষতি হবে বাংলাদেশ ও আইসিসির
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও আলোচনার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ক্রীড়া উপদেষ্টা এবং বিসিবি সভাপতি জানিয়েছেন, ভারত নয়—শুধু শ্রীলঙ্কার ভেন্যুতে আয়োজন করা হলে বাংলাদেশ খেলবে। অন্যথায় বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের ক্রিকেট অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে চাপের মুখে পড়তে পারে আইসিসিও।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করলেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্ট মিলিয়ে প্রায় চার কোটি টাকার সমপরিমাণ অর্থ পেতে পারত, যা মার্কিন মুদ্রায় আনুমানিক তিন লাখ ডলার।

বিজ্ঞাপন

সেরা ১২ দলের মধ্যে জায়গা করতে পারলে এ অঙ্ক বেড়ে দাঁড়াত প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা বা সাড়ে চার লাখ ডলারের কাছাকাছি।

বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ালে এই অংশগ্রহণ ফি আর মিলবে না। বিসিবি আইসিসির কাছ থেকে সম্ভাব্য তিন থেকে পাঁচ লাখ ডলার হারাবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় চার থেকে ছয় কোটি টাকার সমান। বোর্ডের জন্য এটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বকাপ না খেললে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও বড় অঙ্কের আয় থেকে বঞ্চিত হবেন। ম্যাচ ফি, পারফরম্যান্স বোনাস ও প্রাইজমানি—সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। একটি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেই একজন বাংলাদেশি ক্রিকেটার গড়ে অন্তত আড়াই লাখ টাকা আয় করেন। টুর্নামেন্টে একাধিক ম্যাচ খেলার সুযোগ না থাকলে এই আয়ও বন্ধ হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক টুর্নামেন্টগুলোর একটি। বাংলাদেশ অংশ না নিলে সম্প্রচার আয় ও স্পন্সরশিপেও প্রভাব পড়তে পারে। ভারতীয় উপমহাদেশে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো সাধারণত উচ্চ দর্শকসংখ্যা টানে। এসব ম্যাচ না হলে টিআরপি কমার আশঙ্কা রয়েছে, যার ফলে বিজ্ঞাপনদাতা ও স্পন্সরদের আগ্রহ কমতে পারে। সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকাররাও বলছেন, বাংলাদেশের ম্যাচ কমে গেলে টুর্নামেন্টের সামগ্রিক বাণিজ্যিক মূল্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রাইজমানির পরিমাণ ছিল টুর্নামেন্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ। সে আসরে—

বিজ্ঞাপন

রানার্সআপ দল পেয়েছিল প্রায় ১২ লাখ ৮০ হাজার ডলার, সেমিফাইনালে বিদায় নেওয়া দুই দল পেয়েছিল ৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫০০ ডলার করে, দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে না পারা দলগুলো পেয়েছিল ৩ লাখ ৮২ হাজার ৫০০ ডলার

৯ম–১২তম দল পেয়েছিল ২ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ ডলার, ১৩–২০তম দল পেয়েছিল ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার, এ ছাড়া সেমিফাইনাল ও ফাইনাল বাদে প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য অতিরিক্ত ৩১ হাজার ১৫৪ ডলার দেওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশ অংশ না নিলে এসব সম্ভাব্য আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের মতে, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বকাপ আয়োজন আইসিসির জন্যও বাণিজ্যিকভাবে ক্ষতিকর হতে পারে। তার ভাষ্য, এতে প্রায় ২০ কোটি দর্শক হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে। তবে সম্প্রচার স্বত্ব আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় সরাসরি আইসিসির ক্ষতির চেয়ে সম্প্রচারক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের ক্ষতি বেশি হতে পারে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রীড়াঙ্গনেও পড়েছে। দুই দেশের মধ্যে পর্যটন ভিসা সেবা বন্ধ থাকায় সমর্থকদের স্বাভাবিকভাবে ভারতে গিয়ে খেলা দেখার সুযোগও অনিশ্চিত। বিশ্বকাপ সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতা এবং একটি মুম্বাইয়ে নির্ধারিত ছিল।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ না নিলে তা কেবল ক্রীড়া সিদ্ধান্তেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং খেলোয়াড়, বোর্ড, সম্প্রচার বাজার ও স্পন্সরশিপ—সব ক্ষেত্রেই এর আর্থিক প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে।

জেবি/জেএইচআর
Logo

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ

মোঃ শফিকুল ইসলাম ( শফিক )

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়ঃ ৫৭, ময়মনসিংহ লেন, ২০ লিংক রোড, বাংলামটর, ঢাকা-১০০০।

ফোনঃ 02-44615293

ই-মেইলঃ dailyjanobaninews@gmail.com; dailyjanobaniad@gmail.com

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD