Logo

যে কারণে বিসিবির পদ হারালেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল

profile picture
ক্রীড়া প্রতিবেদক
৭ এপ্রিল, ২০২৬, ২১:০৯
যে কারণে বিসিবির পদ হারালেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল
আমিনুল ইসলাম বুলবুল | ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)-এর বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন এই বোর্ডের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

একইসঙ্গে বোর্ড পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে এনএসসি। নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশের তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন রাশনা ইমাম, মির্জা ইয়াসির আব্বাস, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, মিনহাজুল আবেদীন, আতহার আলী খান, তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এনএসসি এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রতিবেদনে বিসিবির সাম্প্রতিক নির্বাচনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে গুরুতর অনিয়ম ও অনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠে আসে।

বিজ্ঞাপন

তদন্তে দেখা গেছে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার কাউন্সিলর মনোনয়নে বারবার সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এতে করে পছন্দসই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা হয়। পাশাপাশি সরকারি পর্যায় থেকে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টার কথাও উঠে এসেছে।

অন্যদিকে, মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটিগুলোর মাধ্যমে কাউন্সিলর তালিকা পাঠানো এবং কিছু অঞ্চলে নিয়মবহির্ভূতভাবে কমিটির সদস্যসংখ্যা বাড়ানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। ভোটার তালিকা প্রকাশে বিলম্ব ও একাধিক সংস্করণে পরিবর্তনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ণ করার বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মেট্রোপলিটন ক্লাবগুলোর নির্বাচনেও অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। কাউন্সিলরদের ওপর চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনকালীন পরিবেশ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ছিল না বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ই-ভোটিং প্রক্রিয়া নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে বলা হয়েছে, ভোটারদের নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করে সরকারি কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে, যা ভোটের গোপনীয়তা ও গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। এমনকি ভোটগ্রহণের স্থান নির্বাচনেও স্বার্থের সংঘাতের বিষয়টি উঠে এসেছে।

বিসিবি সভাপতি হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী এককভাবে প্রাক্তন ক্রিকেটার মনোনয়ন দেওয়ার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য ও রেকর্ড সরবরাহে অনীহাকেও অসহযোগিতা হিসেবে দেখা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচালক পদে নির্বাচিত করার লক্ষ্যে অ্যাডহক কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যা ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বিসিবির সংবিধান ও নির্বাচন বিধিমালার কাঠামোগত দুর্বলতার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে স্বচ্ছ তত্ত্বাবধান ব্যবস্থা ও ই-ভোটিং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ বিধান না থাকায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

সব মিলিয়ে, এসব অনিয়ম ও অভিযোগের ভিত্তিতেই বর্তমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে এনএসসি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিসিবির প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD