রেকর্ড ১০ গোলের ম্যাচে ফ্রান্সকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর শেষদিকে রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও স্পেনের নিয়ন্ত্রিত খেলায় আটকে গিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন ভেঙে যায় ফ্রান্সের। ফলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে দুই দলই কিছুটা হতাশা ও আক্ষেপ নিয়েই মাঠে নামে। তবে সেই ম্যাচই পরিণত হয় বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে। ১০ গোলের বৃষ্টিতে গড়া এই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
বিজ্ঞাপন
মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি শুরুতে একঘেয়ে হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, ৬৪ হাজার ৪৭৮ দর্শক উপভোগ করেন দুর্দান্ত এক গোলবন্যা। বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিকের নৈপুণ্যে ইংল্যান্ড ৬-৪ গোলের জয় তুলে নেয়। এর মাধ্যমে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর পুরুষদের বিশ্বকাপে এটিই ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য। একই সঙ্গে দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত কোনো বিশ্বকাপে এটিই তাদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ অর্জন।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ৪-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে ফরাসিদের কোণঠাসা করে ফেলে ইংল্যান্ড। ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইসের গোলের পর ১৮ মিনিটে তার অ্যাসিস্ট থেকেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা। এরপর ৩৭ ও প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১ মিনিট) যথাক্রমে মার্কাস রাশফোর্ড ও এবেরেচি এজের অ্যাসিস্টে জোড়া গোল পূর্ণ করেন সাকা। ১৯৩০ সালের এপ্রিলের পর এই প্রথম কোনো ম্যাচে প্রথমার্ধেই ৪ গোলে পিছিয়ে পড়ার তিক্ত স্বাদ পেল ফ্রান্স।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
দিদিয়ের দেশমের বিদায়ী ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেয় ফরাসিরা। ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে মাইকেল ওলিসের অ্যাসিস্টে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপে। যার সুবাদে লিওনেল মেসিকে (২১ গোল) টপকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২ গোলের মালিক এখন ফরাসি এই তারকা, যা তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুট জয়ের দৌড়েও সবার ওপরে তুলে দিয়েছে। এর মাঝে ৫৪ মিনিটে এমবাপের অ্যাসিস্ট থেকে ব্র্যাডলি বারকোলাও ফ্রান্সের হয়ে একটি গোল করেন।
ম্যাচের ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাকা। ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের নকআউটে এবং ১৯৫৮ সালে পেলের পর ফ্রান্সের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকের অনন্য কীর্তি গড়লেন তিনি। এরপর যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে দায়ত উপামেকানোর অ্যাসিস্টে উসমান দেম্বেলে গোল করে ব্যবধান কমালেও, ৯৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডের ৬-৪ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন।
শেষ গোলের মধ্য দিয়ে বেলিংহ্যামও টুর্নামেন্টে নিজের সপ্তম গোল পূর্ণ করেন, যা এক বিশ্বকাপে যেকোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের জন্য সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল হওয়া তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ হয়ে ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের এই লড়াই, যা ১৯৫৮ সালে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফ্রান্সের ৬-৩ গোলের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে ফ্রান্সের মাইকেল ওলিসে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সাতটি সহায়তার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ১৯৭০ সালে ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলের গড়া ছয় সহায়তার রেকর্ড ভেঙে দেন। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জনের দিনটিও ফ্রান্সের জন্য হতাশার হয়ে থাকে। কারণ বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এর আগে কখনও তারা ছয় গোল হজম করেনি। শুধু তাই নয়, যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দীর্ঘ ৬৬ বছর পর প্রথমবারের মতো ছয় গোল খাওয়ার লজ্জাও পেতে হয়েছে ফরাসিদের।








