ইনফান্তিনো বিদায় নিলে কারা হতে পারেন পরবর্তী ফিফা সভাপতি?

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সাম্প্রতিক চাপের মধ্যে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন ইভেন্ট বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা ঘোষণার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন সুইস এই ফুটবল প্রশাসক। পরে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এলেও তার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ইউরোপের শীর্ষ ফুটবল সংস্থা উয়েফা ফিফার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইনফান্তিনোকে পদত্যাগ অথবা অপসারণের জন্য ভোটের মুখোমুখি হওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি পদ ছাড়লে পরবর্তী ফিফা সভাপতি হিসেবে কারা আলোচনায় আসতে পারেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
ভিক্টর মন্টালিয়ানি
সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় অন্যতম নাম কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টালিয়ানি। ইনফান্তিনোর মতো তিনিও ২০১৬ সালে সুশাসন ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হন। কানাডা সকারের সাবেক সভাপতি মন্টালিয়ানি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ও আয়োজনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইংরেজির পাশাপাশি ফরাসি, ইতালীয় ও স্প্যানিশ ভাষায় সাবলীল এই ফুটবল প্রশাসক ২০২৪ সালে কনকাকাফের বর্ধিত কোপা আমেরিকা আয়োজনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তবে ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে এমন আয়োজন করার ধারণার বিষয়ে তিনি আগ্রহ দেখাননি।
রাজনৈতিকভাবেও প্রভাবশালী মন্টালিয়ানি দুই বছর পরপর বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রচেষ্টায় তৈরি হওয়া জটিলতা মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন। একই সঙ্গে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের ধারণার প্রতিও তিনি খুব একটা সমর্থন দেখাননি।
শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফা
বিজ্ঞাপন
এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল খলিফাও সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের আলোচনায় রয়েছেন। ২০১৩ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২৭ সাল পর্যন্ত চতুর্থ মেয়াদের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
বাহরাইনের এই ফুটবল সংগঠকের নেতৃত্বে এশিয়ার ফুটবলে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা চালু ও সম্প্রসারণ হয়েছে। ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এলিট’, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু’, ‘চ্যালেঞ্জ লিগ’ এবং ২০২৪-২৫ মৌসুমে চালু হওয়া ‘উইমেনস চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া এশিয়ান কাপও ২৪ দলের টুর্নামেন্টে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ইনফান্তিনোর ফিফা পরিচালনার ধরন নিয়ে সমালোচনার সঙ্গে শেখ সালমানও একমত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এএফসির ৪৬ সদস্যকে তিনি নিজের অবস্থানের সঙ্গে রেখেছেন। তাদের অনেকেই ফিফার পরিকল্পনা থেকে পাওয়া অর্থ তাদের নিজস্ব ফুটবল ব্যয়ের তুলনায় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
বিজ্ঞাপন
নাসের আল-খেলাইফি
প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের (পিএসজি) সভাপতি ও ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবসের চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফির নামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
২০২১ সালে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইউরোপীয় সুপার লিগের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার পর আল-খেলাইফি ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে ইউরোপীয় ফুটবল ক্লাবস রাখা হয়।
বিজ্ঞাপন
তার সময় সংগঠনটির সদস্যসংখ্যা বেড়ে ৮০০-এর বেশি ক্লাবে পৌঁছেছে। ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদই এখনো এর বাইরে রয়েছে।
তাত্ত্বিকভাবে কাতারের এই ফুটবল সংগঠক ইনফান্তিনোর শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন। তবে তিনি ফিফা সভাপতির পদে যেতে আগ্রহী নন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, তিনি এই পদটি নিতে ‘সত্যিই আগ্রহী নন’।
ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোম
বিজ্ঞাপন
ফিফার সাধারণ সম্পাদক ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রোমও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফিফার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার প্রভাব ক্রমেই বেড়েছে।
বহুভাষী গ্রাফস্ট্রোম ২০১৬ সালে ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তার চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্বকাপ আয়োজনের সময়ও তাকে ফিফার গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
তবে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত হওয়া তার জন্য যেমন সুবিধা হতে পারে, তেমনি ফিফার পরবর্তী সভাপতি ইউরোপের বাইরের কেউ হওয়া উচিত—এমন আলোচনা থাকায় সেটি তার জন্য প্রতিবন্ধকতাও হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা আগামী মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠেয় সংস্থাটির ৭৭তম কংগ্রেসে। সভাপতি পদে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর।








