সভাপতির পদ বাঁচাতে এবার ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বারস্থ ইনফান্তিনো!

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোকে ঘিরে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার আংশিকভাবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে হস্তান্তরের বিতর্কিত পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মধ্যে এবার নিজের অবস্থান ধরে রাখতে মার্কিন প্রশাসনের সহযোগিতা চাইছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে ইনফান্তিনো সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ব্যক্তিগত বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। ফিফার ভেতরে-বাইরে তার পদত্যাগের দাবি জোরালো হওয়ায় এই বৈঠককে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্পের সমর্থন কি হারিয়েছেন ইনফান্তিনো?
২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছিলেন ইনফান্তিনো। তবে সাম্প্রতিক বিতর্কের পর সেই সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
ফিফার অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এখন ইনফান্তিনোর ফোনও নিতে আগ্রহী নন। আরেকটি সূত্রের দাবি, নেতিবাচক সংবাদ ও সমালোচনা বাড়তে থাকায় ইনফান্তিনো নিজেকে অনেকটা একঘরে মনে করছেন। এ অবস্থায় প্রকাশ্যে তার পাশে দাঁড়াতে পারেন—এমন প্রভাবশালী মিত্র খুঁজছেন তিনি।
২০ বিলিয়ন ডলারের পরিকল্পনাকে ঘিরেই সংকট
বিজ্ঞাপন
ইনফান্তিনোকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ফিফার নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই গঠনের পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে বিশ্বকাপের সম্প্রচার, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি ও লাইসেন্সিংসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক অধিকার পরিচালনার কথা ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মার্কিন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান থ্রাইভ ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানটির ২০ শতাংশ শেয়ার প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারে কিনতে আগ্রহ দেখায়। এতে পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছিল।
পরিকল্পনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ব ফুটবলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। অভিযোগ ওঠে, অধিকাংশ সদস্য ফেডারেশন ও ফুটবল প্রশাসককে অবহিত না করেই গোপনে এই উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছিল।
বিজ্ঞাপন
ফিফার ভেতরেও বাড়ছে অসন্তোষ
বিতর্ক শুধু ফিফার বাইরেই সীমাবদ্ধ নেই। সংস্থাটির ভেতরেও ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন লামোর প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, তিনি নিজেকে ‘প্রতারিত’ মনে করছেন। বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গোপন আলোচনার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন।
এ পরিস্থিতিতে ফিফার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ‘প্রজেক্ট কিল দ্য মনস্টার’ নামে একটি উদ্যোগ নিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য ইনফান্তিনোকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
উয়েফার বয়কটের হুমকি
ইনফান্তিনোর জন্য সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার কাছ থেকে। গত ৩০ জুলাই উয়েফার সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেন, বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাতিল না হলে ফিফা বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির সব প্রতিযোগিতা বয়কট করা হতে পারে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এই সিদ্ধান্ত ফিফাকে বড় ধরনের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক সংকটের মুখে ফেলেছে। ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশগুলোর মধ্যে স্পেন ও পর্তুগালও রয়েছে, যারা উয়েফার সদস্য। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আয়োজক দেশ নিজেদের বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার মতো নজিরবিহীন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
ব্লাটারের মতো সংকটে ইনফান্তিনো?
২০১৬ সালে দুর্নীতির কেলেঙ্কারির পর সেপ ব্লাটারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে ফিফার সভাপতি হন ইনফান্তিনো। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি সংস্থাটিতে স্বচ্ছতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
তবে এক দশক পূর্ণ হওয়ার আগেই তিনিও নেতৃত্বের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে পড়েছেন। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার নিয়ে বিতর্ক, ফিফার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং বিভিন্ন কনফেডারেশনের বিরোধিতায় তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ অবস্থায় মার্কিন প্রশাসনের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হলেও, এতে তার সভাপতির পদ কতটা নিরাপদ হবে—সেটিই এখন বিশ্ব ফুটবলে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।








