‘লোক দেখানো’ মনে হলেও রোনালদোর শাস্তি ‘যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত’

পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শাস্তিকে অনেকেই ‘লোক দেখানো’ মনে করছেন। তবে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন (এফপিএফ) মনে করছে, তার অপরাধের জন্য এই শাস্তিই ‘যথেষ্ট ও পর্যাপ্ত’। জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও মাত্র ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পেশাদার ফুটবলে এক হাজার গোলের মাইলফলকের দিকে এগিয়ে চলেছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী রোনালদো। ইতোমধ্যে তার গোলসংখ্যা ৯৮১। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার আলোচনায় এসেছেন তিনি।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের আন্তর্জাতিক বিরতিতে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পুরোটা সময় বেঞ্চে বসে থাকতে হয় রোনালদোকে। ১৮ বছর পর প্রথমবার কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে পুরো সময় মাঠের বাইরে ছিলেন তিনি। এর আগে ওয়েলসের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে বদলি হিসেবে তুলে নেওয়া হয়েছিল।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আধঘণ্টা খেলার প্রত্যাশায় ওয়ার্মআপও করেছিলেন রোনালদো। কিন্তু কোচ জর্জ জেসুস তাকে মাঠে নামাননি। পরে ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে থাকার নিশ্চয়তা না পেয়ে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যান এই তারকা। ঘটনাটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনের পাশাপাশি পর্তুগালের রাজনীতিতেও আলোচনা তৈরি হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
রোনালদোর এমন আচরণকে অনেকে দাম্ভিকতা হিসেবে দেখলেও পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেয়। পরে এক বিবৃতিতে নিজের আচরণের জন্য সতীর্থ ও ভক্তদের কাছে ক্ষমা চান রোনালদো। পাশাপাশি আবারও পর্তুগালের জার্সিতে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং নিজের শাস্তিও দাবি করেন।
সোমবার এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানায় এফপিএফ। রোনালদোকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যার মেয়াদ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর ধরা হয়েছে। ফলে শাস্তির ১৯ দিন ইতোমধ্যে পার হয়ে গেছে। আগামী ১৪ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচের দুই সপ্তাহ আগেই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হবে।
নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রোনালদোকে ২৫৫ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। আল নাসরে তার দৈনিক আয়ের তুলনায় এই জরিমানার অঙ্ক খুবই সামান্য। ফলে শাস্তির পরিমাণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।
বিজ্ঞাপন
তবে ফেডারেশনের শৃঙ্খলা কমিটি জানিয়েছে, শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে রোনালদোর অনুশোচনা, ফুটবলে তার অবদান ও ক্রীড়ানৈপুণ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি নিজের অর্জন ও পুরস্কারের বিবরণসহ একটি জীবনবৃত্তান্তও জমা দিয়েছিলেন। পাশাপাশি আগের বিবৃতিতে নিজের আচরণের দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই রোনালদোর বিরুদ্ধে তুলনামূলক কম শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে এফপিএফ। তবে শাস্তি যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিতর্ক চলছেই।








