মহেশপুরে অসুস্থ হিমালয়ি শকুন উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় বিরল প্রজাতির একটি হিমালয়ি গৃধিনী শকুন (Gyps himalayensis) অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক কৌতূহল ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি ২০২৬) রাতে উপজেলার নাটিমা গ্রামে বিশালাকৃতির শকুনটি উড়তে না পেরে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর হোসেন। পাখিটির অস্বাভাবিক আকার ও দুর্বল অবস্থা দেখে তিনি সেটিকে নিরাপদে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। প্রথমে গ্রামবাসীরা পাখিটিকে চিনতে না পারলেও খবর ছড়িয়ে পড়লে এক নজর দেখার জন্য এলাকায় ভিড় জমে যায়।
পরে বিষয়টি জানতে পেরে প্রকৃতিপ্রেমী ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মী মোবারক হোসেন মহেশপুর বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার মো. শফিকুল ইসলামকে অবহিত করেন। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে শকুনটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
বিজ্ঞাপন
পরদিন বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় মহেশপুর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে শকুনটির চিকিৎসা শুরু হয়। একই সঙ্গে খুলনার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, শকুনটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে অবস্থার উন্নতি হলে এটিকে মহেশপুরের প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে। তবে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তর করা হবে।
বিজ্ঞাপন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে হিমালয় অঞ্চলে তীব্র শীত ও খাদ্য সংকটের কারণে এই প্রজাতির শকুন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নিচু অঞ্চলে চলে আসে। প্রায় আট ফুট পর্যন্ত ডানার বিস্তৃতির এই বিরল শকুনের উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং বন বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমন্বিত উদ্যোগের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








