নাগরপুরে মসজিদের ৪৫ শতাংশ জমি উদ্ধারে মানববন্ধন, ৭ দিনের আল্টিমেটাম

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পাকুটিয়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রায় ৪৫ শতাংশ জমি জবরদখলমুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। কর্মসূচি থেকে দখলদারদের ৭ দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজ শেষে কালামপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কের কান্দাপাড়া এলাকায় দখলকৃত জমির পাশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে পাকুটিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. শওকত আলী বলেন, “মসজিদের জমি জোরপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। একাধিকবার অনুরোধ করার পরও ইটভাটা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমলে নেয়নি। জমির সকল বৈধ কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, তাই দখলদারদের অবশ্যই জমি ছেড়ে দিতে হবে।”
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, “ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে জমি ছেড়ে না দিলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ সময় পাকুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সংগ্রাম হাবিব বলেন, “জমিটি মসজিদের, কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। জমি উদ্ধারে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। কেউ এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মেসার্স সান ব্রিকস অ্যান্ড ইটভাটা কর্তৃপক্ষ জমিটি দখলে রেখে ব্যবহার করছে। তারা ৭ দিনের মধ্যে জমি ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও জানান।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে ইটভাটা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কান্দাপাড়া মৌজার সি.এস খতিয়ান নং ১৪ ও বি.এস খতিয়ান নং ১০৩ অনুযায়ী দাগ নং ১১৮, ১১৯ ও ১২০-এ মোট ৪৫ শতাংশ জমির নামজারি ও বৈধ কাগজপত্র মসজিদ কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে। এছাড়া কালামপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের সময় ওই জমির জন্য সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণও গ্রহণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
তবে এতসব কাগজপত্র থাকার পরও জমিটি এখনো জবরদখলে রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে জমি উদ্ধার এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।








