Logo

ফতুল্লায় আবারও বিস্ফোরণ, বাবা-ছেলেসহ দগ্ধ ৪ জন

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ
১১ মে, ২০২৬, ১৩:৪১
ফতুল্লায় আবারও বিস্ফোরণ, বাবা-ছেলেসহ দগ্ধ ৪ জন
ছবি: সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় আবারও একটি আবাসিক ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা ও তিন ছেলে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস অথবা ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফতুল্লার শিবু মার্কেট সংলগ্ন কুতুবপুরের রাখিবাজার এলাকায় এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে দগ্ধ চারজনকে উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

দগ্ধরা হলেন— আব্দুল কাদের (৫০), তার তিন ছেলে মেহেদী (১৭), সাকিব (১৬) এবং রাকিব (১৬)।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরের দরজা-জানালা ছিটকে বাইরে পড়ে গেছে। পরে ঘরের ভেতর থেকে দগ্ধ অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা বের হয়ে আসেন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেশীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আশরাফুল আলম জানান, আব্দুল কাদের পরিবার নিয়ে ওই এলাকার একটি একতলা ভবনের ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সকালে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

তার ধারণা, বাসার ভেতরে আগে থেকেই গ্যাস জমে থাকতে পারে। এছাড়া ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধদের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে।

তিনি বলেন, আব্দুল কাদেরের শরীরের প্রায় ৫৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া মেহেদীর ১৮ শতাংশ, সাকিবের ১৭ শতাংশ এবং রাকিবের ২৫ শতাংশ অংশ পুড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসক আরও জানান, মেহেদী ও রাকিবের শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তাদের অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। বর্তমানে চারজনই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, আব্দুল কাদেরের গ্রামের বাড়ি মতলব উপজেলা এলাকায়। জীবিকার প্রয়োজনে তিনি পরিবার নিয়ে ফতুল্লায় বসবাস করতেন এবং অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন।

বিজ্ঞাপন

তার বড় ছেলে মেহেদী হালিম বিক্রির কাজ করতেন। অপর দুই ছেলে সাকিব ও রাকিবের মধ্যে একজন স্থানীয় একটি কারখানায় চাকরি করতেন, অন্যজন চটপটি বিক্রি করতেন।

ঘটনার সময় বাবা ও তিন ছেলে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে আব্দুল কাদেরের স্ত্রী রান্নার প্রস্তুতির জন্য বাইরে পানি আনতে যাওয়ায় তিনি অক্ষত রয়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, এর আগের দিন রোববারও ফতুল্লার আরেকটি বাসায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। তারাও বর্তমানে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

একই এলাকায় পরপর এমন বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্যাসলাইন ও আবাসিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD