রৌমারী সীমান্তে পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ, রাতভর টহলে বিজিবি-জনতা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্তে যৌথ পাহারা, টর্চলাইটের নজরদারি এবং সতর্ক অবস্থানের কারণে এ প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র ও বিজিবি জানিয়েছে, সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ভুন্দুরচর, উত্তর বারবান্দা, বড়াইবাড়ি, ঝাউবাড়ি, বকবান্ধা ও খেওয়ারচর সীমান্তের আন্তর্জাতিক সীমানার ১০৬৫ থেকে ১০৬৯ নম্বর মেইন পিলারসংলগ্ন নো-ম্যান্স ল্যান্ড এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করে।
পুশইনের আশঙ্কা দেখা দেওয়ার পর সোমবার বিকেল থেকেই বিজিবির সদস্যদের পাশাপাশি শত শত স্থানীয় বাসিন্দা লাঠিসোঁটা ও টর্চলাইট নিয়ে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান নেন। রাতভর চলা এ যৌথ পাহারার কারণে সীমান্ত দিয়ে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।
বিজ্ঞাপন
এলাকাবাসীর দাবি, ভারতের অভ্যন্তর থেকে কয়েকজন ব্যক্তিকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চলছিল। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবি ও স্থানীয়রা একযোগে সীমান্তে অবস্থান নেন। সারারাত নজরদারি ও সতর্ক অবস্থানের কারণে অনুপ্রবেশের সব ধরনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
সীমান্তঘেঁষা এলাকার একাধিক সূত্রের ভাষ্য, ভারতের আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কিছু মানুষকে আটক করে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হচ্ছে। পরে তাদের সীমান্ত এলাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্রগুলো আরও জানায়, আসামের মানকারচর থানার অধীন কয়েকটি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষকে জড়ো করা হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তবে বিজিবি ও সীমান্তবাসীর সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব উদ্যোগ সফল হচ্ছে না।
বড়াইবাড়ি সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিন ধরে দিন-রাত সীমান্ত পাহারায় অংশ নিচ্ছেন তারা। অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবিকে সহযোগিতা করছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দাবি, গত কয়েক দিনে একাধিকবার অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবারই তা প্রতিহত করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিজিবির সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিন বলেন, সীমান্তের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছায় বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদারে বিজিবির পাশাপাশি আনসার-ভিডিপি ও গ্রাম পুলিশকে নিয়ে যৌথ টহলের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
জামালপুর ৩৫ বিজিবির সহকারী পরিচালক মো. ইমাম হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে বিজিবি স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের পুশইন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।








