Logo

প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হতেই উধাও রাস্তার ইট

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বগুড়া
১০ জুন, ২০২৬, ২১:৫৬
প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষ হতেই উধাও রাস্তার ইট
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরকে ঘিরে একটি কাঁচা সড়কে অস্থায়ীভাবে ইট বিছানোর পর সফর শেষ হতেই সেই ইট তুলে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রীর পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে রাতারাতি ইট ও বালু ফেলে চলাচল উপযোগী করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সফর শেষে কয়েক দিনের মধ্যেই ওই ইট সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী অবস্থায় থাকলেও স্থায়ী উন্নয়নকাজ শুরু হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে দ্রুততার সঙ্গে অস্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কার করা হয়। পরে ইট তুলে নেওয়ায় আবারও দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

এলাকাবাসী জানান, সড়কটি পাকাকরণের জন্য গত অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। দরপত্র ও কার্যাদেশ সম্পন্ন হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত মূল নির্মাণকাজ শুরু করেনি।

জানা গেছে, বাগবাড়ি-সোনাহাটা সড়ক থেকে জিয়াবাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি কার্পেটিংয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের আগস্টে মেসার্স হক ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কার্যাদেশ অনুযায়ী আগামী আগস্টের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সফরে যান। সফরকালে তিনি বাগবাড়ী শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং চৌকিরদহ খাল খনন প্রকল্পের কাজ উদ্বোধনের পর পৈতৃক বাড়ি জিয়াবাড়ি পরিদর্শন করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সড়কটি দ্রুত চলাচল উপযোগী করতে তড়িঘড়ি করে ইট বিছানোর কাজ শুরু হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা আতিকুর রহমানকে এ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে রাস্তা সংস্কার হওয়ায় মানুষ স্বস্তি পেয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পর আবার ইট তুলে নেওয়ায় আগের মতোই কষ্টে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে এলজিইডির বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান জানান, নিয়ম মেনেই অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। মূল সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ইতোমধ্যে বরাদ্দ রয়েছে। অস্থায়ী সোলিংয়ের জন্য ভাটার ইট ভাড়ায় আনা হয়েছিল বলে কাজ শেষে সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থায়ীভাবে ইট কিনলে ব্যয় অনেক বেড়ে যেত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিজ্ঞাপন

মাদলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, এলজিইডির নির্দেশনায় ভাটার ইট এনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। সফর শেষে সেই ইট আবার ভাটায় ফেরত পাঠানো হয়েছে। এ কাজে পরিবহন ও শ্রমিক ব্যয় বহন করেছে এলজিইডি।

নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রোকন তালুকদারও জানান, গুরুত্বপূর্ণ সফর উপলক্ষে সাময়িকভাবে ইট বিছানো হয়েছিল। যেহেতু ইটগুলো ভাড়ায় আনা হয়েছিল, তাই পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গাবতলী উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুর রহমান বলেন, জরুরি বরাদ্দের আওতায় অস্থায়ীভাবে সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মূল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সুবিধার্থে ইট সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হচ্ছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে ভিন্ন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে থাকা সড়কটির স্থায়ী উন্নয়ন দ্রুত শুরু না হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। তারা দ্রুত পাকাকরণের কাজ শুরু করে টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD