Logo

কাপাসিয়ায় ইজিবাইক চার্জে বিদ্যুতের চাপ, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কাপাসিয়া, গাজীপুর
১৮ জুন, ২০২৬, ১৩:৫৫
কাপাসিয়ায় ইজিবাইক চার্জে বিদ্যুতের চাপ, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
ছবি: প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, অটোরিকশা ও অটোভ্যানের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চার্জিংয়ের জন্য বিদ্যুতের ব্যবহারও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

এতে স্থানীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক গ্রাহক। তাদের দাবি, এর কারণে ভোল্টেজ কমে যাওয়া, লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ ভোগান্তি বেড়েছে।

কাপাসিয়ার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে এখন বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচল করছে। এসব যানবাহনের জন্য বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে চার্জিং গ্যারেজ ও স্টেশন। কাপাসিয়া বাসস্ট্যান্ড, তরগাঁও মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন শত শত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক যানবাহন চার্জে বসানো হলে অনেক এলাকায় ভোল্টেজ কমে যায়। এতে ফ্যান, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সমস্যা হয়।

বানরহাওলা এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল্লাহ বলেন, রাতে অনেক সময় ভোল্টেজ কমে যায়। ফ্যান ঠিকমতো চলে না, ফ্রিজেও সমস্যা হয়। ইজিবাইকের চার্জিং স্টেশন এর অন্যতম কারণ বলে মনে করি।

সনমানিয়া ইউনিয়নের রওশন আরা বেগম বলেন, লোডশেডিং হলে শিশু ও বয়স্কদের বেশি কষ্ট হয়। গরমের সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ঘরে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

তবে ইজিবাইক চালকরা বলছেন, জীবিকার প্রয়োজনে চার্জিংয়ের ওপর তাদের নির্ভর করতে হয়। রিকশাচালক আবুল হোসেন বলেন, চার্জ ছাড়া গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশনের ব্যবস্থা করলে আমাদের সুবিধা হবে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ টাকা খরচ হয়।

তরগাঁও ইউনিয়নের অটোরিকশাচালক সুজন জানান, প্রতিদিন তার চার্জিং খরচ প্রায় ১০০ টাকা। যে গ্যারেজে তিনি চার্জ দেন সেখানে প্রায় ১০টি অটোরিকশা নিয়মিত চার্জ করা হয়।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ইজিবাইকের কারণে বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি পুরোপুরি মানতে নারাজ।

বিজ্ঞাপন

কাপাসিয়া জোনাল অফিসের এজিএম মো. মাহবুব আলম জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ২৭ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৩ মেগাওয়াট।

তিনি বলেন, বরাদ্দ কম পাওয়া বা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে কারিগরি সমস্যার কারণে লোডশেডিং হয়। ইজিবাইকের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ ট্যারিফ রয়েছে। শুধুমাত্র ইজিবাইকের চার্জিংয়ের কারণে বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে—এমন তথ্য আমাদের কাছে নেই।

ভোল্টেজ সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে কাপাসিয়ায় বড় ধরনের ভোল্টেজ সমস্যা নেই। ঝড়-বৃষ্টি, গাছপালা লাইনের ওপর পড়ে যাওয়া বা কারিগরি ত্রুটির কারণেই অধিকাংশ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও জানান, কাপাসিয়া জোনাল অফিসের মোট গ্রাহক সংখ্যা ৬০ হাজার ৩২০ জন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে নিয়মিত লাইন রক্ষণাবেক্ষণ, নতুন লাইন নির্মাণ, পুরোনো তার পরিবর্তন ও অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে।

আমরাইদ সাব-জোনাল অফিসের উপব্যবস্থাপক রব্বানী হাসান জানান, তাদের আওতাধীন এলাকায় গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৭৫ হাজার এবং বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৩ মেগাওয়াট। অনুমোদিত চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে মাত্র একটি, যদিও বাস্তবে আরও অনেক অনানুষ্ঠানিক চার্জিং কেন্দ্র রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও চার্জিং ব্যবস্থাপনা এখনো সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আসেনি। তারা পৃথক বাণিজ্যিক সংযোগ, অবৈধ চার্জিং স্টেশন তদারকি এবং বিদ্যুৎ অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

তাদের মতে, সময়মতো পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়বে এবং এর প্রভাব সাধারণ গ্রাহকদের ওপর পড়তে পারে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD