Logo

‘পাঁচ বছর পর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে থাকবে একটি করে খেলার মাঠ’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ
১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:২১
‘পাঁচ বছর পর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে থাকবে একটি করে খেলার মাঠ’
ছবি: সংগৃহীত

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ অফিসার্স ক্লাবে শহরের প্রথম আন্তর্জাতিক মানের টার্ফ ফুটবল মাঠ ‘দি স্পোর্টিভা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার নানা যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে। সুস্থ জাতি গঠন, মাদকমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলায় নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে বিদ্যমান ক্রীড়া অবকাঠামোকে আরও কার্যকর ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় জায়গা পাওয়া না গেলেও ছোট পরিসরের উপযুক্ত জমি ব্যবহার করে মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছর পর দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ থাকবে—এটাই সরকারের লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের ডিভাইস আসক্তি থেকে দূরে রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাইয়ের কার্যক্রমের প্রথম আসর সফলভাবে শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় আসরের অনলাইন নিবন্ধন চলছে। এবার ১০টি ইভেন্টে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে দল গঠন করা হবে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।

ময়মনসিংহের ক্রীড়া অবকাঠামো প্রসঙ্গে আমিনুল হক বলেন, দেশের ২২টি জেলার সুইমিং পুলকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। ময়মনসিংহের সুইমিং পুলও প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে ব্যবহারোপযোগী করা হবে। শিশুদের সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পানিতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী প্রতিবন্ধী শিশুদের ক্রীড়াক্ষেত্রে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের মধ্য থেকেও অলিম্পিক ও প্যারা অলিম্পিকে পদকজয়ী খেলোয়াড় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে প্যারা ক্রীড়াবিদদের ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও তীব্র গরম মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাকির হোসেন বাবুল, ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং দি স্পোর্টিভার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফেরদৌস।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, খেলোয়াড়, ফুটবলপ্রেমী, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে নতুন টার্ফ ফুটবল মাঠে ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের স্বর্ণপদকজয়ী দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচেও অংশ নেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD