Logo

আবাসিক হোটেলে ঝুলছিল পুলিশ সদস্যের মরদেহ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার
১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১৩:৪৯
আবাসিক হোটেলে ঝুলছিল পুলিশ সদস্যের মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আতাউল কবির নামে এক পুলিশ সদস্যের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে ‘দি গ্রান্ড ঢাকা হোটেল’ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

নিহত আতাউল কবির পিরোজপুরের নেছারাবাদ এলাকার আব্দুল খালেক তালুকদারের ছেলে। তিনি টেকনাফের হোয়াইক্যং হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন।

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আতাউল কবির হোটেলের ওই কক্ষে ওঠেন। পরদিন শুক্রবার সকাল ১১টার মধ্যে তার চেকআউট করার কথা ছিল।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি কক্ষ থেকে বের না হওয়ায় হোটেল কর্মীরা দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে হোটেল ব্যবস্থাপক পুলিশকে খবর দেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

খবর পেয়ে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করেন। সেখানে ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় আতাউল কবিরের মরদেহ দেখতে পান তারা।

মরদেহের সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়েছে পুলিশ

বিজ্ঞাপন

হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল আবছার জানান, আতাউল কবির প্রায় এক বছর ধরে হোয়াইক্যং হাইওয়ে থানায় কর্মরত ছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন আতাউল। কয়েক মাস আগে বিষয়টি সম্পর্কে তিনি জানতে পারেন এবং তাকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন।

ওসি আরও জানান, কয়েক দিন আগে আতাউল ছুটিতে গিয়েছিলেন। পরে কর্মস্থলে ফেরার সময় তার মানসিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

বিজ্ঞাপন

মৃত্যুর ধরন নিয়ে প্রশ্ন

এদিকে আতাউল কবিরের মৃত্যুর ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহের অবস্থান নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

মরদেহের ছবি দেখে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার পা খাটের ওপর থাকা অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা কীভাবে ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা হচ্ছে। অনেকে ঘটনাটি বিস্তারিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে শুধু মরদেহের অবস্থান বা ছবি দেখে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ঘটনাটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু—তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

ময়নাতদন্তের পর কারণ নিশ্চিত হবে

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, আতাউল কবিরের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। একই সঙ্গে হোটেলে আতাউল কবিরের অবস্থান, কক্ষের পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর আগে তার গতিবিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD