পুশইনের ছক ভেস্তে দিল বিজিবি, ২০ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তে ২০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বিজ্ঞাপন
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরের দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার চৌকা সীমান্তের ১৭৭/২-এস পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ২০ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পাঠানোর চেষ্টা চালানো হয়। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা প্রতিহত করেন।
বিজ্ঞাপন
এ সময় সীমান্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সতর্ক অবস্থানের কারণে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।
বিজিবির অধিনায়ক জানান, ঘটনার পর সকাল ৯টার দিকে উভয় পক্ষের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হয়। পরে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বিএসএফ তাদের নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পুনরায় নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, দুপুর ১২টার দিকে দ্বিতীয় দফায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের আরেকটি বৈঠক শুরু হয়, যেখানে সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে ৫ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৪ জন শিশু রয়েছে। তবে তাদের পরিচয় বা জাতীয়তা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সীমান্ত এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভোরের দিকে একদল মানুষকে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশের ভেতরে পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে বিজিবির সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন। স্থানীয়রাও সীমান্তে উপস্থিত হয়ে বিজিবির অবস্থানকে সমর্থন করেন।
বিজ্ঞাপন
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সীমান্তে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের দৃঢ় অবস্থানের কারণে অনুপ্রবেশের চেষ্টা সফল হয়নি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অননুমোদিত প্রবেশ বা পুশইনের অভিযোগ দুই দেশের জন্যই সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তবাসীরা বলছেন, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ এবং স্থানীয় জনগণের সচেতন ভূমিকার ফলে অনুপ্রবেশের সম্ভাব্য একটি ঘটনা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে চৌকা সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা হয়েছে এবং বিজিবি নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।








