Logo

ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর
২১ জুন, ২০২৬, ১৭:৫৯
ডিবি হেফাজতে ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগ পরিবারের
ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের মধুখালীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে থাকা অবস্থায় মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্ত (২৮) নামে এক ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবার নির্যাতনের অভিযোগ তুললেও পুলিশ বলছে, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (২১ জুন) সকালে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রান্ত মারা যান। এর আগে শনিবার বিকেলে তাকে নিজ বাড়ির সামনে থেকে আটক করে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশের একটি দল।

নিহত প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি প্রয়াত এসকেন্দার হায়দারের ছেলে এবং ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

প্রান্তের স্বজনদের দাবি, ডিবি পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে তাকে মারধর করেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, মাদকসহ আটকের পর হেফাজতে থাকা অবস্থায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ব্রেইন স্ট্রোকজনিত কারণে তার মৃত্যু ঘটে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নিহতের মামা মো. সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৬টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একদল সদস্য প্রান্তকে আটক করে নিয়ে যান। তারা তাকে আটকের সময় মারধর করেন এবং পরে বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করেন।

প্রান্তের মা খাদিজা আক্তার বলেন, আমার ছেলেকে আটকের সময় শরীর তল্লাশি করে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। বাড়ির প্রতিটি কক্ষ তল্লাশি করেও কিছু উদ্ধার করা হয়নি। অথচ, পরে শুনলাম গাঁজা উদ্ধারের কথা বলা হচ্ছে। আমার সুস্থ ছেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে তার মৃত্যু হলো, এর সঠিক তদন্ত চাই।

বিজ্ঞাপন

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের দাবি, শনিবার রাত প্রায় ২টার দিকে মধুখালী পৌরসভার গোন্দারদিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রান্তকে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গভীর রাতে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি খাবার গ্রহণ করেন এবং নামাজ আদায় করেন। পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

বিজ্ঞাপন

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শিকদার আফ্রিদি রিজভী জানান, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রান্তের মস্তিষ্কে ব্যাপক রক্তক্ষরণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তার শরীরে কোনো বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম বলেন, আটক হওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত প্রান্তকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD