Logo

টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি চট্টগ্রামের নগরবাসী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৭ জুলাই, ২০২৬, ১১:৪১
টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি চট্টগ্রামের নগরবাসী
ছবি: সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, হালিশহর, কাজির হাট ও আকমল আলী রোডসহ বিভিন্ন এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে টানা বৃষ্টির পর নগরীর নিচু এলাকাগুলোতে দ্রুত পানি জমতে শুরু করে। কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও তারও বেশি পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অনেক যানবাহন মাঝপথে আটকে পড়ে।

জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, হালিশহর ও কাজির হাট এলাকা। এসব স্থানের বহু বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে আসবাবপত্র, গৃহস্থালির সামগ্রী এবং ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে ডুবে যাওয়ায় স্থানীয়দের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

সকালের কর্মব্যস্ত সময়ে জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। নগরীর বিভিন্ন মোড়ে তীব্র যানজট দেখা দেয়। অনেকে জুতা হাতে নিয়ে কিংবা প্যান্ট গুটিয়ে কোমর বা হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটও দেখা দেয়। ফলে অনেক কর্মজীবী নির্ধারিত সময়ে অফিসে পৌঁছাতে পারেননি।

চান্দগাঁওয়ের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে দীর্ঘ সময় সড়কে আটকে থাকতে হয়েছে। তার অভিযোগ, বর্ষা এলেই একই ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি।

বাকলিয়ার বাসিন্দা নাসরিন আক্তার জানান, সকালের বৃষ্টির পর তাদের বাসার নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে। এতে আসবাবপত্র দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হয়েছে। তার মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও বাস্তব পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

আগ্রাবাদের ব্যবসায়ী আবদুল কাদের বলেন, দোকানে পানি ঢুকে কিছু পণ্য নষ্ট হয়েছে। প্রায় প্রতিটি ভারী বর্ষণেই ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।

আকমল আলী রোড এলাকার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে অলিগলি পানিতে ডুবে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে এবং বহু বাসায় পানি প্রবেশ করেছে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান মুরাদপুর সুন্নিয়া মাদ্রাসা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, সকালের বৃষ্টির পর থেকেই বাসার নিচতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরবন্দি অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও সামান্য কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে চলে যায়। এতে শুধু যান চলাচল নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা কার্যক্রম এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে আমবাগান আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিজন রায় জানান, একই সময়ে তাদের কেন্দ্রে ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। তার ভাষ্য, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে আগামী দুই থেকে তিন দিন চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD