Logo

চার দিন পর কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
১২ জুলাই, ২০২৬, ১৮:১৪
চার দিন পর কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
ছবি: সংগৃহীত

চার দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে কক্সবাজারের সঙ্গে দেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে জরুরি সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর রবিবার থেকে আবার ট্রেন চলাচল শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ট্রেনকে খুব ধীরগতিতে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রেলওয়ে সূত্র জানায়, বন্যার পানি সরে যাওয়ার পর প্রকৌশলীরা ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করেন। এরপর লাইনটিকে সীমিত গতিতে ট্রেন চলাচলের জন্য উপযোগী ঘোষণা করা হয়। এর ফলে দুপুরে প্রথমে ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ এবং পরে ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ সফলভাবে ওই অংশ অতিক্রম করে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার গতিতে চলবে। ওই অংশ অতিক্রম করার পর দোহাজারী পর্যন্ত ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটার। পরবর্তী সময়ে রেললাইনের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পর গতিসীমা পুনর্বিবেচনা করা হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ষোলশহর রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা জানান, গত মঙ্গলবার থেকে জান আলী হাট স্টেশনে আটকে থাকা চট্টগ্রামগামী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ রবিবার দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ অতিক্রম করে পুনরায় যাত্রা শুরু করে এবং পরে নিরাপদে চট্টগ্রামে পৌঁছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ও দুপুরের দিকে একই অংশ অতিক্রম করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে। এতে চার দিন ধরে বন্ধ থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ রেলপথে স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরতে শুরু করেছে।

গত মঙ্গলবার টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম নগরের সুন্নিয়া মাদ্রাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যায়। এতে রেল চলাচল পুরোপুরি ব্যাহত হয় এবং মাঝপথে আটকে পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগ জানায়, প্রবল স্রোতের কারণে রেললাইনের নিচের পাথর সরে গেলেও মূল রেললাইন বাঁকা হয়ে যায়নি বা বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি। দ্রুত পাথর পুনর্বিন্যাস, লাইন শক্তিশালীকরণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ অংশ উঁচু করার কাজ সম্পন্ন করায় স্বল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় ট্রেন চলাচল সম্ভব হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত প্রতিটি ট্রেন সতর্কতার সঙ্গে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলবে। একই সঙ্গে প্রকৌশলীরা নিয়মিত রেললাইন পর্যবেক্ষণ করবেন, যাতে নতুন করে কোনো ঝুঁকি তৈরি না হয়। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি এবং রেলপথের স্থায়িত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর ধাপে ধাপে স্বাভাবিক গতিতে ট্রেন চলাচল চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কক্সবাজার রুট দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও যাত্রীবাহী রেলপথ হওয়ায় চার দিনের বন্ধের কারণে বহু যাত্রীকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ায় পর্যটক, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত ধীরগতিতে চলাচলের সিদ্ধান্তকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD