মহেশপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই সাত দোকান, পাশে এমপি-প্রশাসন

ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌরসভার কলেজ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পৌর মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একটি ট্রাক পুড়ে গেছে। আগুনে ফার্নিচার, মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালামাল, ট্রাকের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মহেশপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি এবং কোটচাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে জে কে ট্রান্সপোর্ট, রুবেল হোল্ডিং, মন্টু সাইকেল স্টোর ও লিটন ফার্নিচারসহ সাতটি দোকান। আগুনে প্রতিষ্ঠানগুলোর মালামাল ও সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী কাদের আলী বলেন, বহু বছরের কষ্টার্জিত পুঁজি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এক রাতেই আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন ও আর্থিক সহায়তার জন্য সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঝিনাইদহ-৩ (মহেশপুর-কোটচাঁদপুর) আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
মো. মতিয়ার রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের এই দুর্দিনে আমি তাদের পাশে আছি। দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত হিসাব নিরূপণ করে সরকারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সে বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একই দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক মো. সাজ্জাদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে রয়েছে।’
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হলেও তদন্তের পর অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ জানা যাবে।
স্থানীয়রা জানান, ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে শুধু কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, এর সঙ্গে জড়িত বহু পরিবারের জীবিকাও এক রাতের আগুনে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত পুনর্বাসন ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।








