Logo

বরাদ্দ ছিল ৩০ মেট্রিক টন চাল, তবু ত্রাণ পেলেন না বন্যার্তরা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
২ আগস্ট, ২০২৬, ১৬:৪৮
বরাদ্দ ছিল ৩০ মেট্রিক টন চাল, তবু ত্রাণ পেলেন না বন্যার্তরা
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যাকবলিত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ থাকলেও সেই সহায়তা পৌঁছেনি ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৩০ মেট্রিক টন জিআর চাল এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গুদামে পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে দুর্গত মানুষের ভাগ্যে একমুঠো চালও জোটেনি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, বন্যাকবলিত এলাকার পরিবর্তে বন্যামুক্ত দুটি ইউনিয়নের নামে ওই চাল বরাদ্দ দিয়ে উত্তোলন করে গুদামজাত করে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বন্যাকবলিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেনের অবহেলা ও খামখেয়ালিপনার কারণেই এবার বন্যার্তরা সরকারি ত্রাণের চাল পাননি। উত্তোলন করা চাল বর্তমানে কোথায় এবং কী অবস্থায় রয়েছে, সে সম্পর্কেও তারা নিশ্চিত নন।

উপজেলা ত্রাণ শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বন্যায় উপজেলার দুই হাজার ৬৪০ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই সময়ে নদীভাঙনের শিকার হন আরও শতাধিক বাসিন্দা। বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় তিন হাজার মানুষের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩০ মেট্রিক টন জিআর চাল এবং ১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়। গত ২৯ জুন বরাদ্দের পরদিন ৩০ জুন চাল ও শুকনো খাবার উত্তোলন করা হয়। বিধি অনুযায়ী তিন কার্যদিবসের মধ্যেই এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ শেষ করার কথা ছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, বন্যার্তদের মধ্যে ৩০ মেট্রিক টন চালের কোনো অংশই বিতরণ করা হয়নি। শুধু ৩০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তবে বন্যা কবলিত রায়গঞ্জ ইউপির চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান দীপ বলেন, বন্যায় আমার ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এর মধ্যে ফান্দের চর অন্যতম। ওই সময় বার বার যোগাযোগ করেও বন্যার্তদের জন্য কিছু পাইনি। শুনেছি চাল বরাদ্দ হয়েছে। তবে আমরা এখনো পাইনি।

জানা যায়, বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ করা চাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচএম খোদাদাদ হোসেনের নির্দেশে বন্যা কবলিত নয় এমন দুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসকের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন দুটি হলো সন্তোষপুর ও রামখানা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অবহেলায় জুন মাসের টিসিবি গ্রাহকদের বরাদ্দ চালও ফেরত গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৪১ হাজার ১০২ জন টিসিবি গ্রাহকের জন্য বরাদ্দ দুই লাখ পাঁচ হাজার ৫১০ কেজি চাল সময়মতো উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। একইসঙ্গে নির্ধারিত সময়ে ছাড়পত্রে স্বাক্ষর না করায় চাল উত্তোলন করা যায়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন। তিনি বলেন, বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের আগেই বন্যার পানি নেমে যায়। নিয়ম অনুযায়ী চাল ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা উত্তোলন করে গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আবার বন্যা দেখা দিলে সেই চাল বিতরণ করা হবে।

টিসিবির চাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশেষ কারণে তার অনুপস্থিতির সময় চাল উত্তোলনের নির্ধারিত সময় পার হয়ে যায়। তবে গ্রাহকদের অন্যান্য বরাদ্দকৃত পণ্য বিতরণ করা হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD