জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছীতে ১২ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একটি কিন্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক শফিউল হাসান দিপুর বিরুদ্ধে। অভিযোগটি ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভান্ডারপুর এলাকায় অবস্থিত আলফা কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ওই ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শফিউল হাসান দিপু জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলা জামায়াতের আমির এবং কোলা ইউনিয়নের কাজি। অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ওই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে বৃষ্টির কারণে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। এ সময় একা পেয়ে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরেন এবং তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থী তাকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। পরে বাড়িতে ফিরে পরিবারের কাছে বিষয়টি জানালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর পর অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান।
ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যালয় ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া ঘটনার প্রতিবাদে ভান্ডারপুর চারমাথা এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি এবং বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ শোনা গেছে। তার প্রশ্ন, একজন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষকই যদি নিরাপদ না হন, তাহলে অভিভাবকেরা সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে কীভাবে নিশ্চিন্ত থাকবেন?
কোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহীনুর ইসলাম স্বপন বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও নারী-সংক্রান্ত অভিযোগ ওঠার কথা তিনি শুনেছেন। বাল্যবিবাহসহ আরও কিছু অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কাজির লাইসেন্স ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন বাতিলসহ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, ঘটনার কথা জানার পর তিনি হতবাক হয়েছেন। প্রধান শিক্ষক ও জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের বিষয়ে শফিউল হাসান দিপুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বদলগাছী থানার ওসি মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা থানায় এসেছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের আমির মো. ফজলুর সাঈদ বলেন, তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জেনেছেন। তার ধারণা, এটি ষড়যন্ত্রও হতে পারে এবং বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা অন্যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।








