Logo

১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, জামায়াত কর্মীকে ৫০ বেত্রাঘাত

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৫:৫২
১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, জামায়াত কর্মীকে ৫০ বেত্রাঘাত
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে হেলাল উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত গ্রাম্য সালিশে তাকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে সালিশের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে স্থানীয়ভাবে এ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন পেশায় পল্লী চিকিৎসক। স্থানীয়দের দাবি, তিনি একসময় ইউনিয়ন যুবলীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে এক শিশু পাশের একটি দোকান থেকে জিরা মসলা কিনে বাড়ি ফেরার পথে হেলাল উদ্দিন তাকে দোকানে ডাকেন। এ সময় শিশুটির সঙ্গে তার আরও এক ছোট বোন ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ছোট বোনকে বসিয়ে রেখে শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে যান তিনি। সেখানে তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করলে শিশুটি চিৎকার করে বাইরে বেরিয়ে আসে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বিকেলে স্থানীয়ভাবে একটি গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গ্রাম্য সালিশে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি জানান, শিশুর পরিবারের অনুরোধে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা প্রমাণিত হয়নি। তবে শিশুকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থিত সবার সম্মতিতে হেলাল উদ্দিনকে ৫০ বেত্রাঘাত এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, ভিকটিম পরিবার গরিব এবং অসহায়। তাই তারা প্রকৃত বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে অতীতেও নারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। এই ঘটনার তদন্ত করে তার শাস্তি নিশ্চত করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে এমন কাজ করার সাহস না পায়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অস্বীকার করে হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি এ ধরনের কোনো কাজ করিনি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে মানসম্মান ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

হরণী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মমতাজ বেগম বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিচার গ্রাম্য সালিশে বা ইউনিয়ন পরিষদে করার কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ করতে চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।

হরণী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির হাফেজ তারিফুল মাওলা বলেন, হেলাল উদ্দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর অনেকেই নিজেকে রক্ষার জন্য জামায়াত বা বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। হেলাল উদ্দিনও জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকতেন। তবে তাকে দলের কোনো পর্যায়ের কর্মী বা সদস্য করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, হরণী ইউনিয়ন হাতিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক সময় সব ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে থানার নজরে আসে না। বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD