ভোলায় দুই মাসেও হয়নি সেতু নির্মাণ, দুর্ভোগে দুই ইউনিয়নের মানুষ

ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের বেতুয়া খালের ওপর নির্মিত প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ লোহার সেতুটি ভেঙে পড়ার দুই মাস পার হলেও এখনো পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর বিকল্প যাতায়াতের ব্যবস্থাও করা হয়নি। এতে রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের অন্তত পাঁচ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
বিজ্ঞাপন
গত ২৩ জুন বালুবাহী একটি ট্রাক জরাজীর্ণ সেতুটির ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সেতুটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। এতে ট্রাকচালক মো. নাইম (২৫) নিহত হন এবং তাঁর সহকারী মো. আল আমিন (১২) গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর থেকেই সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সেতু ভেঙে যাওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে সুপারি গাছ ও বাঁশ দিয়ে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেছেন। বর্তমানে ওই ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোটিই দুই ইউনিয়নের মানুষের পারাপারের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণের প্রায় এক যুগ পর থেকেই সেতুটি জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কিংবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। একপর্যায়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই বালুবাহী ট্রাক পারাপারের সময় সেতুটি ভেঙে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সেতুটি রমাগঞ্জ ও ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি ভেঙে পড়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা মো. ইয়াছিন, মো. ফয়েজ উল্যাহ, মো. লোকমান, আবু মিয়া, মো. বাবুল, মো. শামীম মাস্টার, মো. জাবের, মো. জসীম ও মো. মোসলেহ উদ্দিনসহ অনেকে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়রা জানান, বেতুয়া খালের ওপর সেতুটি ২০০৩ সালে নির্মাণ করা হয়। সেতুটি সাবেক মন্ত্রী, সাবেক স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের গ্রামের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় অবস্থিত।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী মো. তানজিলুর রহমান বলেন, “সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য মাটি পরীক্ষা (সয়েল টেস্ট) করতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সয়েল টেস্ট সম্পন্ন হওয়ার পর নকশা তৈরি করে জমা দেওয়া হবে। এরপর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হবে। আশা করছি, সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে সয়েল টেস্টের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সয়েল টেস্ট ও নকশা তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। পাশাপাশি নতুন সেতু নির্মাণ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোর পরিবর্তে নিরাপদ ও টেকসই বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।








