কলকাতা হোটেলে অগ্নিকাণ্ড: পিতা-পুত্রের সৎকার, স্ত্রীর দাফন

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরানোর অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনরা। এরই মধ্যে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নিহতদের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। দুই দেশের প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হলে শুক্রবার দুপুরে দর্শনা বন্দর দিয়ে মরদেহগুলো দেশে আনার কথা রয়েছে। তবে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হলে শনিবার মরদেহ দেশে ফিরতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় হোটেলটির ইজারাদার আবু জাফরকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি হোটেলের দুই কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তারা হলেন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমিন, শিশু ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম হোসেন। পরিবারের সাত বছরের শিশু কন্যা মহিমা দত্ত বর্তমানে নিরাপদে রয়েছে। তাকে দেশের বাড়িতে দাদা-দাদির কাছে রেখে যাওয়ায় সে দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দেবাশীষ দত্ত সনাতন ধর্মাবলম্বী হলেও তার স্ত্রী আফসানা শারমিন ছিলেন মুসলিম। ফলে নিহত আফসানা শারমিনের মরদেহ কোন ধর্মীয় রীতিতে শেষকৃত্য করা হবে, তা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আলোচনা হয়।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার দত্ত জানিয়েছেন, জীবিত অবস্থায় আফসানা শারমিন তার মাকে বলে গিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর যেন মুসলিম ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তার মরদেহ দাফন করা হয়। সেই ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিলীপ কুমার দত্ত বলেন, শারমিনের মা যেহেতু মেয়ের মরদেহ কবরস্থ করতে চেয়েছেন, তাই পরিবারের পক্ষ থেকে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শারমিনের মরদেহ তার বাবার মরদেহের সঙ্গে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কুষ্টিয়া শহরের পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মেয়ের মরদেহ দাফন করা হবে।
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে, দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশু ছেলে স্বর্ণশীষ দত্তের মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের একটি শ্মশানে হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সৎকার করা হবে।
এ ঘটনায় একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে হারিয়ে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মরদেহ দেশে ফেরার পর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা।








