জেলা কমিটিতে নাম তুলতে ৫ লাখ টাকা দাবি, এনসিপির ৫ নেতা গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমদকে অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগে দলটির জেলা পর্যায়ের পাঁচ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে কুলাউড়া পৌর শহরের বিছরাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর রাতেই কুলাউড়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তামিম আহমদ।
অভিযোগে মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়াকে প্রধান অভিযুক্ত করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে এহসান জাকারিয়া, মো. তোফায়েল আহমেদ, সাহেল আহমেদ, ফাহিম আহমদ জনি ও সোহাগ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। কুলাউড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরহাদ মাতব্বর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দলীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তামিম আহমদের সঙ্গে অভিযুক্তদের আগে থেকেই বিরোধ ছিল। তামিমের অভিযোগ, জেলা কমিটিতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এহসান জাকারিয়া পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর এহসান জাকারিয়া ও তারেক জামিল তামিমকে হত্যার হুমকি দেন।
বিজ্ঞাপন
তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে তিনি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মৌলভীবাজার থেকে বড়লেখার দিকে যাচ্ছিলেন। কুলাউড়া পৌর শহরের বিছরাকান্দি এলাকায় পৌঁছালে এহসান জাকারিয়াসহ অন্য অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করেন।
এ সময় এহসান জাকারিয়া পুনরায় পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তামিম। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার নেতৃত্বে তাকে জোর করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তামিমকে উদ্ধারে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে তামিমসহ সাতজন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিজ্ঞাপন
কুলাউড়া থানার এসআই ফরহাদ মাতব্বর জানান, ঘটনার পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে পাঁচ লাখ টাকা দাবি, অপহরণের চেষ্টা ও হত্যার হুমকির অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।








