Logo

মেহেরপুরে সাংবাদিক হামলা মামলায় অজ্ঞাত আসামি গ্রেফতার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মেহেরপুর
৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৮
মেহেরপুরে সাংবাদিক হামলা মামলায় অজ্ঞাত আসামি গ্রেফতার
ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিককে মারধর, অবরুদ্ধ করে রাখা এবং তাদের ব্যবহৃত সংবাদ সংগ্রহের সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় খায়রুজ্জামান ওরফে আকামত নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, খায়রুজ্জামান মামলার এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আসামিদের মধ্যে একজন।

গাংনী থানার এসআই অঙ্কুশ ও এসআই করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে। পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের বই খুলে পরীক্ষা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি ধারণ করতে সেখানে যান নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি তারেক হোসেন।

বিজ্ঞাপন

সাংবাদিকদের অভিযোগ, পরীক্ষারত শিক্ষার্থীদের দৃশ্য ধারণের সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাদের মারধর করা হয়। পরে দুই সাংবাদিকের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নাগরিক টেলিভিশনের বুম মাইক্রোফোন নিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাদের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়।

পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কৌশলে ওই কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসেন রাব্বি আহমেদ ও তারেক হোসেন। হামলায় আহত হওয়ার পর তাদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণের পর তারা গাংনী থানায় গিয়ে ঘটনার বিষয়ে মামলা করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মামলায় কাজিপুর ডিগ্রি কলেজের দুই শিক্ষক মনিরুজ্জামান বিপ্লব ও রফিকুজ্জামান বাবর আলীসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গাংনী থানায় দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৪৬/২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৭৯, ১১৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলা দায়েরের পর থেকেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে তেঁতুলবাড়িয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে খায়রুজ্জামান ওরফে আকামতকে গ্রেফতার করা হয়।

গাংনী থানা পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে হামলার ঘটনায় কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা ছিল, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা ও তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় মেহেরপুরের সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সাংবাদিকরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD