জামিনে বের হওয়া ছেলের হাতে খুন হলেন ঘুমন্ত বাবা

নরসিংদীর শিবপুরে ঘুমন্ত বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বড় ছেলে শাকিল চৌধুরীর (৩৫) বিরুদ্ধে। এ সময় ছেলেকে বাধা দিতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন নিহতের স্ত্রী ও আরেক ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাকিল পলাতক রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার ভরতেরকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে।
নিহত আব্দুল বাছেদ মিয়া (৬৫) ওই গ্রামের মৃত ইউনুস আলীর ছেলে। তিনি পেশায় ভ্রাম্যমাণ ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা বাছেদ মিয়ার বড় ছেলে শাকিল চৌধুরী।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতেও বাবা-ছেলে একই ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। তখন তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ বা ঝামেলা ছিল না। রাত সাড়ে ৩টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ওই ঘর থেকে শব্দ শুনতে পান।
বিজ্ঞাপন
পরে অন্ধকার ঘরে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, আব্দুল বাছেদ মিয়া ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, শাকিল প্রথমে ছুরি দিয়ে বাবাকে আঘাত করেন। পরে ধারালো অস্ত্র ও কুড়াল দিয়ে তাকে কোপানো হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ সময় শাকিলের মা সখিনা বেগম ও ভাই রাশেদ তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। এতে দুজনই আহত হন।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আব্দুল বাছেদ মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের মেয়ে হাফসা বেগম বলেন, বাবাকে যারা হত্যা করেছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চান তারা। তিনি বলেন, তার বাবা অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হামলার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে পরিবারের সবাই আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান হাফসা।
শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনুর মিয়া বলেন, ছেলের হাতে বাবা হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে আগেও মামলা রয়েছে এবং প্রায় পাঁচ মাস আগে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হন।
বিজ্ঞাপন
হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ কী এবং হত্যায় কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।








