Logo

চলছে দেশের গভীরতম কূপের খনন, মিলবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:২৫
চলছে দেশের গভীরতম কূপের খনন, মিলবে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে একসঙ্গে তিনটি নতুন কূপ খনন করছে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। এর মধ্যে ৩১ নম্বর কূপটি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে গভীর অনুসন্ধান কূপ হিসেবে ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হচ্ছে। প্রকল্পটি সফল হলে আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে তিনটি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নন্দনপুরে চলছে ৩১ নম্বর কূপের খননকাজ। সংশ্লিষ্টদের আশা, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের গভীর স্তরে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাব্য মজুতের বিষয়ে এই অনুসন্ধান থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।

বিজিএফসিএল সূত্রে জানা যায়, ৩১ নম্বর কূপে খনন শুরু হয় চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল। কূপটির নির্ধারিত গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার। এরই মধ্যে ৪ হাজার ৬৩৭ মিটার পর্যন্ত খনন সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরেই খনন শেষ করে এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এর আগে তিতাসে সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত কূপ খনন করা হয়েছিল। ১৯৬৯ সালে ওই গভীরতায় খননের সময় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ মিটারে উচ্চচাপের একটি স্তরের মুখোমুখি হওয়ায় আরও গভীরে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। পুরোনো কূপগুলোতে গ্যাসের মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদনও ধীরে ধীরে কমছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়াতে ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এই তিন কূপের মধ্যে ২৯ ও ৩১ নম্বরের খননকাজ চলছে। ২৯ নম্বর কূপের কাজ শেষ হওয়ার পর একই রিগ ব্যবহার করে ৩০ নম্বর কূপ খনন করা হবে। ২৯ নম্বর কূপে এরই মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৮৬০ মিটার খনন হয়েছে।

গভীর অনুসন্ধান কূপ প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, তিনটি কূপ সফলভাবে খনন করা সম্ভব হলে গড়ে দৈনিক ৪০ থেকে ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে। ২৯ নম্বর কূপের কাজ কারিগরি জটিলতা ছাড়া চললে প্রায় দুই মাসের মধ্যে শেষ হতে পারে। এরপর ৩০ নম্বর কূপের কাজ শুরু হবে। আর ৩১ নম্বর কূপের জন্য আরও তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি জানান, ৩১ নম্বর কূপটি উচ্চচাপ ও উচ্চতাপমাত্রার বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করে আরও গভীরে যাবে। ফলে খননের সময় কারিগরি জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী তিনটি কূপের কাজ আগামী ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প পরিচালক আরও বলেন, তিতাসে এতদিন ৩ হাজার ৭০০ মিটার পর্যন্ত গভীরতার তথ্যই জানা ছিল। এর নিচে কী ধরনের ভূতাত্ত্বিক স্তর বা গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সিসমিক জরিপের ভিত্তিতে ৩১ নম্বর কূপ এলাকায় প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে গভীর অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিতাসের পাশাপাশি বিজিএফসিএল পরিচালিত অন্যান্য গ্যাসক্ষেত্রেও উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বন্ধ কূপে ওয়ার্কওভার এবং নতুন কূপ খননের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক।

তিনি বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে তিনটি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের আশা করা হচ্ছে। দৈনিক ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেশের মোট চাহিদার তুলনায় খুব বড় পরিমাণ না হলেও আমদানি করা এলএনজির ওপর চাপ কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তার ভাষ্য, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়লে সমপরিমাণ এলএনজি আমদানি কমানো সম্ভব হবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ও সাশ্রয় হবে। তিনি জানান, দেশীয় উৎপাদন থেকে সরকার তুলনামূলক কম দামে গ্যাস পেলেও এলএনজি আমদানিতে প্রতি ইউনিটে অনেক বেশি ব্যয় হয়।

বিজ্ঞাপন

১৯৬২ সালে পাকিস্তান শেল অয়েল কোম্পানি তিতাস গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। ১৯৬৮ সালে এখানে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে এটি দেশের অন্যতম প্রধান গ্যাস উৎপাদন ক্ষেত্র হিসেবে জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থায় ভূমিকা রেখে আসছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD