Logo

‘প্রশাসনের কাছে পাঁচ দিন ঘুরলেও কোনো গুরুত্ব দেয়নি’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
পাবনা
১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৫:৩২
‘প্রশাসনের কাছে পাঁচ দিন ঘুরলেও কোনো গুরুত্ব দেয়নি’
ছবি: সংগৃহীত

পাবনায় নিখোঁজের সাত দিন পর ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কলুনিয়া গ্রামে নিজ বাড়ির পেছনের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

কলি ওই গ্রামের কামাল প্রামানিকের মেয়ে এবং স্থানীয় আল-ফালাহ স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় কয়েক দিন ধরে অপেক্ষায় থাকা বাবা-মা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে গিয়েছিল কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে বাজারের ব্যাগ দিয়ে বাড়ির পাশের দিকে যায় সে। এরপর সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও আর বাড়িতে ফেরেনি।

মেয়ের সন্ধানে পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকা, প্রতিবেশীদের বাড়ি ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির পরা স্যান্ডেল পাওয়া যায়। পরে তার বাবা পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

এরপর টানা সাত দিন আত্মীয়স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় মেয়েটির সন্ধান চালান পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কলিকে উদ্ধারের দাবিতে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।

বিজ্ঞাপন

এর পরদিনই বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে কলির মরদেহ উদ্ধার হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কলির বাবা কামাল প্রামানিক। তিনি অভিযোগ করেন, মেয়েকে খুঁজে পেতে প্রশাসনের কাছে পাঁচ দিন ঘুরলেও কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তার দাবি, পুলিশ মাঠপর্যায়ে না নেমে শুধু বাড়িতে এসে চলে যেত।

কামাল প্রামানিক বলেন, মানববন্ধনের পর মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে থানায় অপহরণ মামলা করা হয়। এরপর বুধবার সকালে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান তারা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

কলির মা মোছা. বিউটি আক্তার বলেন, মেয়েকে ফিরে পাওয়ার আশায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বারবার আবেদন জানিয়েছিলেন। এখন মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিনি হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে পুলিশের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে জেলা পুলিশ। পাবনার পুলিশ সুপার মো. আবু আশ্রাফ বলেন, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই থানা পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছিল। মঙ্গলবার অপহরণ মামলা নেওয়া হয় এবং পরদিন সকালে বাড়ির পেছন থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপারের ধারণা, মঙ্গলবার রাতে দুষ্কৃতকারীরা মরদেহটি সেখানে ফেলে রেখে যেতে পারে। তবে ঘটনাটি তদন্তাধীন।

তিনি জানান, হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা দল, থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন পাবনা জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুর রহমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও এমন ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD