মির্জাপুরে একই জমির মালিকানা দাবি, আদালতে দুই পক্ষের মামলা

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার কুড়িপাড়া এলাকায় ১২ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এক পক্ষ ১৯৪১ ও ১৯৪৩ সালের দলিলমূলে জমির মালিকানা দাবি করছে। অপর পক্ষের দাবি, আরএস ও বিআরএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটির মালিক তারা। বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুড়িপাড়া মৌজার সিএস ৮১৩ ও ৮১৪ নম্বর দাগে ১৯৪১ সালের ১২ আগস্ট হাকিম উদ্দিন সেকের কাছ থেকে মো. ওয়াহেদ আলী সেক ২১ শতাংশ জমি সাব-কবলা দলিলমূলে কেনেন। পরে ১৯৪৩ সালের ৩ নভেম্বর মোহাম্মদ আলী সেকের কাছ থেকে একই দাগ খতিয়ানে আরও ১৫ শতাংশ জমি কেনেন তিনি। এতে ওই দাগ খতিয়ানে ওয়াহেদ আলী সেকের মোট ৩৬ শতাংশ জমির মালিকানা হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
ওয়াহেদ আলী মারা যাওয়ার পর ১৯৬২ সালে আরএস জরিপে ওই ৩৬ শতাংশ জমির মধ্যে ২৪ শতাংশ পলান গংদের নামে এবং ১২ শতাংশ আঃ গফুর গংদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তী সময়ে বিআরএস জরিপে ২৫১১ নম্বর দাগে ২৪ শতাংশ পলান গংদের নামে এবং ১২ শতাংশ গফুরের উত্তরাধিকারীদের নামে রেকর্ড হয়।
তবে ১২ শতাংশ জমি কী ভিত্তিতে আরএস রেকর্ডে আঃ গফুর গংদের নামে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, সে বিষয়ে উভয় পক্ষের কাছ থেকে ভিন্ন দাবি পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
এক পক্ষের তোফাজ্জল হোসেন তারিমুদ্দিন বলেন, ১৯৪১ ও ১৯৪৩ সালের দুটি দলিলের মাধ্যমে ওয়াহেদ আলী ৩৬ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন। তার দাবি, ওই ৩৬ শতাংশের মধ্যে ১২ শতাংশ জমি তার মামা গফুরের নামে আরএস রেকর্ড হয় এবং পরবর্তী সময়ে ওয়ারিশ সূত্রে তারা ওই জমির মালিক হন। পরে তাদের নামে বিআরএস রেকর্ড ও নামজারি হয়েছে এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন বলে জানান তিনি।
তোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ করেন, সম্প্রতি পলানের ছেলে ও আজগানা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি বাদল মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার ছেলেকে মারধর করে ওই ১২ শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করেছেন এবং জমিতে বেড়া দিয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বাদল মিয়া বলেন, তার দাদা ওয়াহেদ আলী সিএসের মূল জোতদারদের কাছ থেকে দুটি সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ৩৬ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। তার দাবি, আরএস জরিপের সময় ভুলবশত ওই জমির ১২ শতাংশ অন্যের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। সম্প্রতি পুরোনো দলিল খুঁজে পাওয়ার পর দলিলমূলে তারা জমিটি বুঝে নিয়েছেন এবং জমির ধারাবাহিকতা সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।
বাদল মিয়া আরও বলেন, তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে তাকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এসব সংবাদের প্রতিবাদ ও নিন্দা জানান তিনি। পাশাপাশি আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ডালিমন নেছা, শামীম মিয়া ও রুবেল মিয়াসহ কয়েকজন জানান, বাদল মিয়ার পরিবারের দাবি করা জমিটি দীর্ঘদিন বেদখলে ছিল। সম্প্রতি তারা সেখানে বেড়া দিয়েছেন। তাদের দাবি, দলিলমূলে জমিটির মালিক বাদল মিয়া ও তার পরিবার। তবে জমি নিয়ে বাদল মিয়া ও তার পরিবারের সঙ্গে কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি বলেও তারা দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাজী সানোয়ার হোসেন বলেন, একপক্ষ ১৯৪১ ও ১৯৪৩ সালের দলিলমূলে এবং অপর পক্ষ আরএস ও বিআরএস রেকর্ডমূলে একই জমির মালিকানা দাবি করছে। দু’পক্ষই আদালতে মামলা করেছে। আমি দু’পক্ষকেই সংযত আচরণ ও ধৈর্যধারণের আহ্বান জানাচ্ছি।
মারামারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমিতে কোনো মারামারি হয়নি। অন্য কোথাও হয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না। তার ভাষ্য, বাদল মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে এর আগে কোনো অভিযোগও তিনি পাননি।
বর্তমানে জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই জমিটির মালিকানা ও রেকর্ডের বিষয়ে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।








