Logo

প্রত্যন্ত গ্রামে চার হাজার বইয়ের পাঠাগার

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
শেরপুর, বগুড়া
১২ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:৩৪
প্রত্যন্ত গ্রামে চার হাজার বইয়ের পাঠাগার
ছবি: সংগৃহীত

বিকেল হলেই পাঠাগারে ভিড় জমায় শিশু-কিশোর ও তরুণেরা। কেউ পড়ে গল্পের বই, কেউ ইতিহাস, জীবনী কিংবা ধর্মীয় বই। মুঠোফোন ও গেমের আসক্তি থেকে তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করার লক্ষ্য নিয়ে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার সিমাবাড়ি ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামে গড়ে উঠেছে শেখ নূর মুহাম্মাদ স্মৃতি পাঠাগার। বর্তমানে পাঠাগারটিতে বইয়ের সংখ্যা প্রায় চার হাজার।

বিজ্ঞাপন

২০২২ সালে শিক্ষক ও নিকাহ নিবন্ধক কাজী মুহাম্মাদ আলমগীর হোসাইন কয়েকজন তরুণকে সঙ্গে নিয়ে পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে প্রায় ৫০০ বই নিয়ে এর যাত্রা শুরু হয়। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সুধীজনের সহযোগিতায় বইয়ের সংগ্রহ বাড়তে থাকে।

পাঠাগারটিতে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, বিজ্ঞান, ইতিহাস, চিকিৎসা ও ধর্মীয় বিষয়সহ নানা ধরনের বই রয়েছে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঠাগারটি খোলা থাকে। গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন পাঠক এখানে বই পড়তে আসেন।

পাঠাগারটির প্রতিষ্ঠাতা কাজী মুহাম্মাদ আলমগীর হোসাইন বলেন, ‘মানুষকে আলোকিত করার লক্ষ্য নিয়েই পাঠাগারটি করেছি। আমরা চাই, শিশু-কিশোরেরা বই পড়ুক, জানার পরিধি বাড়াক।’

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পাঠাগারের নিয়মিত পাঠক তামিম বলে, ‘প্রথমে বাবার চাপে এখানে আসতাম। পরে বিভিন্ন বই পড়ে ভালো লাগতে শুরু করে। এখন নিজে থেকেই আসি। মুঠোফোনের দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে বই পড়তে বেশি আনন্দ লাগে।’

পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক হারুন রশিদ বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখানে অনেক তরুণ আসছেন। তাঁদের মধ্যে মুঠোফোন ও মাদকের আসক্তি থেকে দূরে সরে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পাঠাগারটিতে বই পড়ার পাশাপাশি জাতীয় দিবস পালন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গত মাসে সেখানে নজরুলজয়ন্তী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইদুজ্জামান হিমুও পাঠাগারটি পরিদর্শন করে এর উন্নয়নে সহযোগিতা দিয়েছেন।

তবে পাঠাগারটির বইয়ের সংগ্রহ ও অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে। উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য, বইয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত ১০ হাজারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্যে বাংলা একাডেমি থেকে প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের এক সেট বই কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বই রাখার র‍্যাক, আলমারি ও সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থাও প্রয়োজন।

ইউএনও সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, গ্রাম পর্যায়ে পাঠাগার গড়ে তোলা একটি ভালো উদ্যোগ। প্রত্যেক ইউনিয়নে ছোট পরিসরে পাঠাগার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদেও একটি পাঠাগার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের বই পড়ার আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যন্ত গ্রামের এই পাঠাগারটি স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণদের জ্ঞানচর্চার সুযোগ তৈরি করেছে। বইয়ের সংগ্রহ ও সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে এটি এলাকার শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD