‘আগুন আর কালো ধোঁয়া ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না’

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের সঙ্গে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় চারপাশ ঢেকে যায়। প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে লাগা এ আগুন দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
বিজ্ঞাপন
আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট কাজ করে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
আগুন লাগার সময় আশপাশের পরিবেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে আকলিমা খাতুন নামে এক নারী বলেন, নিজের ভাড়া বাড়িতে দৈনন্দিন কাজ করছিলেন তিনি। এ সময় হঠাৎ চারপাশ কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি ঘাবড়ে যান।
আকলিমা খাতুন বলেন, ধোঁয়া ও আগুন দেখে আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন তারা। পরে নিজ নিজ স্বজনদের খোঁজ নিতে থাকেন। এ সময় আশপাশের বস্তিবাসীসহ স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
আরেক নারী রাহেলা জানান, তাঁর সন্তান দৌড়ে এসে আগুন লাগার খবর দেয়। খবর শুনে সবাই ছোটাছুটি শুরু করেন। পরিস্থিতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, ‘আগুন আর কালো ধোঁয়া ছাড়া কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এদিকে আগুন লাগলে যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না।’
অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘুমিয়ে ছিলেন দিনমজুর লিটন মিয়া। ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁকে ডেকে আগুন লাগার খবর দেওয়া হয়। ঘুম থেকে উঠে আগুন ও ধোঁয়া দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। পরে ঘরে থাকা আসবাবপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র বাইরে সরিয়ে নেন।
বিজ্ঞাপন
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে টঙ্গীর ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানার ইউনিট-২-এ আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুনের শিখা ও ধোঁয়া বাড়তে থাকে এবং দ্রুত কারখানার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
কারখানার ভবনটি ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি এবং এর বিভিন্ন অংশ কাচে ঘেরা। আগুনে কারখানার ভেতরে থাকা ওষুধ, উৎপাদনসংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রথমে টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ শুরু করে। পরে বিভিন্ন স্টেশন থেকে আরও ইউনিট যুক্ত হয়ে মোট ২০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, আগুন নেভানোর কাজে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি, উত্তরা ফায়ার স্টেশনের তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের চারটি, কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশনের চারটি, রাজেন্দ্রপুর ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং পূর্বাচল ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট অংশ নেয়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনো জানা যায়নি।








