দুর্গাপূজা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে: সারাহ কুক

বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রশংসা করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। তিনি বলেছেন, দুর্গাপূজার অন্যতম বিশেষ দিক হলো, এ উৎসব বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্র করে। শুধু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষই নন, অন্য ধর্মের অনুসারীরাও এতে আনন্দের সঙ্গে অংশ নেন।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার ধামরাইয়ে একটি দুর্গাপূজামণ্ডপ ও ঐতিহ্যবাহী ধাতব কারুশিল্পের কর্মশালা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সারাহ কুক।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য দুর্গাপূজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। ধামরাইয়ে এসে সরাসরি পূজা উদ্যাপন দেখতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। এর আগে বেশ কয়েকবার ধামরাইয়ে এলেও দুর্গাপূজার সময় সেখানে আসার সুযোগ হয়নি বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা তুলে ধরে সারাহ কুক বলেন, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করেন। এটি বাংলাদেশের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। দুর্গাপূজায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতির চিত্র তাঁকে মুগ্ধ করেছে।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শনের পাশাপাশি ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ধাতব কারুশিল্পের কর্মশালাও ঘুরে দেখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। এ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ধাতব কারুশিল্প বাংলাদেশের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ শিল্পের ইতিহাস পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। ধামরাইয়ের কর্মশালাগুলোতে শত শত বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের শিল্পসামগ্রী তৈরি হয়ে আসছে।
ধামরাইয়ের কারুশিল্পের প্রতি নিজেদের আগ্রহের কথাও জানান সারাহ কুক। তিনি বলেন, এর আগে তাঁরা বেশ কয়েকবার ধামরাইয়ে এসেছেন এবং সেখান থেকে বিভিন্ন কারুশিল্পসামগ্রী কিনেছেন। সেসব সামগ্রী বর্তমানে ঢাকায় তাঁদের বাসভবনে রয়েছে।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার আরও বলেন, ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী ধাতব কারুশিল্প বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ইতিহাস তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঐতিহ্য সরাসরি দেখার সুযোগ পেয়ে তাঁরা আবারও আনন্দিত।
বিজ্ঞাপন
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পের জন্য পরিচিত ধামরাইয়ে দুর্গাপূজা এবং ধাতব কারুশিল্প—উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্যের প্রকাশ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সঙ্গে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুন এবং ধামরাই পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।








