Logo

নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ভাইকে পড়ালেন বোন, পেলেন জিপিএ-৫

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালী
১ নভেম্বর, ২০২৬, ১৫:৪৫
নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ভাইকে পড়ালেন বোন, পেলেন জিপিএ-৫
ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ৮৫৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন মো. আরাফাত খান। তবে তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বাবাকে হারানোর বেদনা, অভাবের সঙ্গে লড়াই এবং বড় বোনের অসামান্য আত্মত্যাগের গল্প।

বিজ্ঞাপন

দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর মারা যান আরাফাতের বাবা মো. ইসমাইল খান। বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ সদস্যের পরিবারে নেমে আসে আর্থিক দুরবস্থা। সংসারের অনিশ্চয়তায় একসময় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় তাঁর পড়াশোনা। এমনকি পড়ালেখা ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে হয়েছিল তাঁকে।

কিন্তু ছোট ভাইয়ের স্বপ্ন ভেঙে যেতে দেননি বড় বোন মোসা. রুবি আক্তার। পরিবারের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করেন তিনি। কঠোর পরিশ্রম করে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি ভাইয়ের পড়াশোনার ব্যয়ও বহন করেন।

বোনের সেই ত্যাগ আর নিজের অধ্যবসায়ের ফল পেয়েছেন আরাফাত। আখতার হোসেন চৌধুরী মেমোরিয়াল কলেজ থেকে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে তিনি এখন পুরো উপজেলার আলোচনায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আরাফাত পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার বাজিতা চতুর্থ খণ্ড গ্রামের বাসিন্দা। নিজের সাফল্যের জন্য বড় বোনকেই সবচেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিচ্ছেন তিনি।

কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করে আরাফাত বলেন, ‘বাবাকে হারানোর পর আমার জীবন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই সব স্বপ্ন মাটিতে মিশে যায়। ভেবেছিলাম, আমার আর লেখাপড়া হবে না। কিন্তু তখনই পাশে ছায়ার মতো দাঁড়িয়েছেন আমার বড় বোন। তার আত্মত্যাগ ও সংগ্রাম কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়।’

বিজ্ঞাপন

বোনের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘পোশাকশ্রমিকের কঠিন কাজ করেও আমার বড় বোন যেভাবে আমাকে আগলে রেখেছেন, সেই ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারব না। আমার স্বপ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা।’

ভবিষ্যতে শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন আরাফাত। উচ্চশিক্ষা শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। তবে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। এ অবস্থায় সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে ছোট ভাইয়ের ফলাফলে আনন্দিত বড় বোন রুবি আক্তার। তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তাঁর দীর্ঘদিনের সংগ্রাম। বাবার মৃত্যুর পর পাঁচ সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হয় তাঁকে। সংসার চালাতে পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করলেও ভাইয়ের পড়াশোনা বন্ধ হতে দেননি।

বিজ্ঞাপন

রুবি আক্তার বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর এই সংসারের হাল আমাকেই ধরতে হয়েছে। পরিবারের পাঁচ সদস্যের খরচ জোগাতে হচ্ছে। তাই পোশাক কারখানার মতো কঠিন কাজে যোগ দিয়ে চেষ্টা করছি সবার মুখে হাসি ফোটাতে। আরাফাত মেধাবী। তার জন্য তেমন কিছুই করতে পারিনি। প্রবল ইচ্ছাশক্তিই তাকে সাফল্য এনে দিয়েছে।’

একদিকে বাবাকে হারানোর শোক, অন্যদিকে অভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই—সবকিছু পেরিয়ে আরাফাতের এই অর্জন এখন পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। বড় বোনের ঘাম ও ত্যাগকে সঙ্গী করে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন মির্জাগঞ্জের এই মেধাবী শিক্ষার্থী।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD