Logo

তালতলীতে ৪৫ দিনেই দেড় কোটি টাকার বাঁধে ধস

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
বরগুনা
৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪
তালতলীতে ৪৫ দিনেই দেড় কোটি টাকার বাঁধে ধস
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার তালতলীতে পায়রা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁধের একাধিক স্থানে ধস ও ফাটল দেখা দেওয়ায় নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে তেঁতুলবাড়িয়া, বড় অঙ্কুজান, নলবুনিয়া ও আগাপাড়াসহ ১৫টি গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের তেঁতুলবাড়িয়া-নলবুনিয়া এলাকায় গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বাঁধের কাজ শেষ হয়। তবে ৩ নভেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩০০ মিটার জিও ব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, ৫৯০ মিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ পাঁচটি প্যাকেজে পায় মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশন, মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশন, মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্স। এসব কাজের জন্য বরাদ্দ ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

কাজ চলাকালেই নির্মাণের মান নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ না করে জিও ব্যাগে পর্যাপ্ত বালু বা পাথর ব্যবহার করা হয়নি। নামমাত্র বালু ও মাটি দিয়ে ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। পাশাপাশি ভেকু দিয়ে বাঁধের পাশের নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নির্মাণকাজ করায় অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন অংশ ধসে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের আশঙ্কা, বাঁধের দুর্বল অংশ যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পায়রা নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে। এতে ১৫টি গ্রামের বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও মাছের ঘের প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে এলাকায়।

ধসের বিষয়ে মেসার্স সোহেল এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স মনি ট্রেডার্সের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মেসার্স পপুলার কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী লিমন নদীর মোহনাকে ধসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মেসার্স আর.এস. কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী রাসেল বাঁধের একটি অংশে ধসের কথা স্বীকার করে এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কার করার আশ্বাস দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান বলেন, নদীর তলদেশ থেকে ভাঙন শুরু হওয়ায় জিও ব্যাগ দিয়ে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। টেকসই সমাধানের জন্য ডিপিপি পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এলাকাবাসীর দাবি, বাঁধ নির্মাণের কাজের গুণগত মান ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ১৫টি গ্রামের মানুষের জীবন, বসতবাড়ি ও সম্পদ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD