Logo

বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের নেপথ্যে কারণ কী?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫
বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের নেপথ্যে কারণ কী?
ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে কথা-কাটাকাটির ঘটনা ঘটলেও পরে তা হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সক্রিয় হতে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রশিবির দিনব্যাপী ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার পাশাপাশি ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামে একটি ব্যানারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের কয়েকজন সাবেক শীর্ষ নেতার ছবি এবং সাকা চৌধুরীর ছবিও প্রদর্শন করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এ সময় ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা প্রদর্শনীস্থলে গিয়ে ওই ব্যানারটি পাঁচ মিনিটের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। তবে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা জানান, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আয়োজন করা হয়েছে, তাই এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তারা।

বিজ্ঞাপন

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পরে হাতাহাতি শুরু হলে চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে। এতে ছাত্রদলের এক সহ-সভাপতি আহত হন বলে জানা যায়। পাল্টাপাল্টি হামলার সময় ছাত্রশিবিরের এক নেতাকেও মারধরের অভিযোগ ওঠে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। প্রক্টর প্রদর্শনীতে থাকা বিতর্কিত ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানালে ছাত্রশিবিরের নেতারা হামলার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এর কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষ্ণচূড়া সড়কে টাঙানো জুলাই শহীদদের একটি ব্যানার ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ এলাকায় এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মূল ফটকের দিকে অবস্থান নেন। এ সময় উভয় পক্ষ থেকেই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলাকালে আবারও সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটলে উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। পরে ছাত্রদলের একাংশ ক্যাম্পাস ত্যাগ করে এবং কয়েকজন সদস্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, কিছু ছাত্রদল কর্মীর হাতে ধারালো অস্ত্র এবং ছাত্রশিবিরের কিছু নেতাকর্মীর হাতে পাইপ, গাছের ডাল ও ইটের টুকরা দেখা গেছে। যদিও এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মিলিয়ে প্রায় ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঘটনার কারণ ও দায় নিরূপণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD