নেপালে সরকার গঠনের পথে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া দল

নেপালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। প্রাথমিক ফলাফলে তরুণ প্রজন্মের সমর্থন পাওয়া এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে হওয়া গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
আরএসপির অন্যতম আলোচিত প্রার্থী কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র ও জনপ্রিয় র্যাপার বালেন্দ্র শাহ। ‘বালেন’ নামে পরিচিত এই নেতা জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। এর ফলে তরুণদের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ে।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অনানুষ্ঠানিক নেতৃত্বে ছিলেন বালেন্দ্র শাহ। নেপালের তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ তাকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায় বলেও বিভিন্ন সময় জানানো হয়েছিল।
বিজ্ঞাপন
বালেন্দ্রের দল আরএসপির চেয়ারম্যান সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী রবি লামিছানে। তিনি পেশাগত জীবনে টেলিভিশন সাংবাদিক ছিলেন। লাইভ অনুষ্ঠানে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেওয়ার কারণে তিনি দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
প্রাথমিক ভোট গণনায় দেখা গেছে, বালেন্দ্র শাহ ঝাপা-৫ আসনে এগিয়ে রয়েছেন। সেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর প্রধান কেপি শর্মা ওলি।
এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ওলির দল নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি। হিমালয়ঘেরা দেশটিতে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আরএসপি প্রায় ৯০টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে কেপি শর্মা ওলির দল এগিয়ে আছে আটটি আসনে।
বিজ্ঞাপন
নেপালের অন্যতম পুরোনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস, যার নেতা গগন থাপা— তারা এগিয়ে রয়েছে নয়টি আসনে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দাহাল ‘প্রচণ্ড’-এর দল সাতটি আসনে এগিয়ে আছে। প্রচণ্ড নিজে রুকুম পূর্ব-১ আসনে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নেপালি কংগ্রেসের প্রার্থী। অন্য দলগুলো এখন পর্যন্ত দুটি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনের মুখে কেপি শর্মা ওলির সরকারের পতন ঘটে। তিন দিন পর দেশটির সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে শপথ নেন। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন ৫ মার্চ সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। সেই অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) নেপালে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অংশ নেয় ৬৫টি রাজনৈতিক দল।
বিজ্ঞাপন
সেপ্টেম্বরে নেপালের তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া অভ্যুত্থানের সময় অনেক বিশ্লেষক এর সঙ্গে বাংলাদেশের ঘটনার মিল খুঁজে দেখেছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ওই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণরা পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।
তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে দেখা যায়, ভোটারদের বড় অংশ পুরোনো দল বিএনপির প্রতিই আস্থা রেখেছেন এবং নতুন দল এনসিপি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। বিপরীতে নেপালের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে—দেশটির ভোটাররা পুরোনো রাজনৈতিক শক্তির বদলে নতুন দল ও নতুন নেতৃত্বের প্রতিই বেশি আস্থা রাখছেন।








