হরমুজ প্রণালি সচলে সাহায্য না করলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ খুব খারাপ হবে

ইরান–সংঘাতের কারণে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করতে মিত্র দেশগুলো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের সুবিধাভোগী দেশগুলোকেই সেখানে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। তার ভাষায়, কোনো সাড়া না পাওয়া বা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের অভিযোগ, ইউরোপ ও চীন হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল সরবরাহের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হলেও সংকট সমাধানে তারা কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহু দূরে হলেও ওয়াশিংটন তাদের সহায়তা করেছে; অথচ এখন নিজেদের প্রয়োজনের সময় সমর্থন পাওয়া যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
এর আগে ট্রাম্প চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যকে একসঙ্গে কাজ করে প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
দুই সপ্তাহেরও বেশি আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেয় বলে জানা যায়। এতে বৈশ্বিক বাজারে নতুন করে তেলের সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য মাইন ও ড্রোন হামলা মোকাবিলায় মিত্র দেশগুলোর ‘মাইনসুইপার’ এবং কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানান ট্রাম্প। পাশাপাশি তিনি ইরান উপকূলে অবস্থানরত উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় বিশেষ বাহিনীর অংশগ্রহণেরও পরামর্শ দেন।
তিনি ন্যাটো প্রসঙ্গে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র দায়িত্ব পালন করছে, এখন দেখা উচিত অন্য সদস্যরা কী ভূমিকা নেয়। তার মতে, ন্যাটোকে একমুখী পথ হিসেবে দেখা ঠিক নয়।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে আলোচনার সময় নিজের হতাশার কথাও জানান ট্রাম্প। তার অভিযোগ, প্রথমদিকে সহায়তা চাইলেও লন্ডন সাড়া দেয়নি; পরে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুটি জাহাজ পাঠানোর ঘোষণা দেয়।
বিজ্ঞাপন
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চীনের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ হয় উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, প্রণালি সচল করতে চীন কার্যকর ভূমিকা না নিলে তার আসন্ন বেইজিং সফর পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তিনি জানান, সমাধান দ্রুত চাই—দুই সপ্তাহ অপেক্ষা দীর্ঘ সময়।
ট্রাম্প দাবি করেন, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের নৌবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে নতুন করে হামলার সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
একই সঙ্গে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে রাশিয়ার কোনো তথ্য সহায়তা আছে কি না, তা ওয়াশিংটন পর্যবেক্ষণ করছে বলেও জানান তিনি।
সূত্র: দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস








