Logo

হরমুজে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায় ভারত, জব্দ ট্যাংকার মুক্তির শর্ত ইরানের

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ মার্চ, ২০২৬, ১৪:৪৭
হরমুজে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চায় ভারত, জব্দ ট্যাংকার মুক্তির শর্ত ইরানের
ছবি: সংগৃহীত

হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় পতাকাবাহী ও ভারতমুখী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা পেলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জব্দ করা তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার ছেড়ে দেওয়ার শর্ত দিয়েছে ইরান। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

বিজ্ঞাপন

ফেব্রুয়ারিতে ভারতের জলসীমার কাছে তিনটি ইরান-সম্পর্কিত ট্যাংকার জব্দ করে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ ছিল, জাহাজগুলো নিজেদের পরিচয় গোপন বা পরিবর্তন করেছিল এবং সমুদ্রে অবৈধভাবে জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিল। বর্তমানে তিনটি জাহাজই মুম্বাই উপকূলে অবস্থান করছে।

এক ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় তেহরান নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের বিষয়ও তুলেছে। একইসঙ্গে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেছেন। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশ করেনি।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নয়াদিল্লিতে ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, সম্প্রতি ইরান দুটি ভারতীয় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী ট্যাংকারকে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের অনুমতি দিয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজ সোমবার পশ্চিম ভারতের বন্দরে ফিরে এসেছে। ইরানে সংঘাত শুরুর পর থেকে প্রণালির দুই পাশে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় জাহাজের নিরাপদ চলাচল প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, সাম্প্রতিক অগ্রগতি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক ও সম্পৃক্ততার ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে কোনো ধরনের বিনিময়মূলক চুক্তি হচ্ছে না।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান পাল্টা আঞ্চলিক পদক্ষেপ নেয়, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালী অতিক্রমকারী জাহাজও ছিল। এতে তিনজন ভারতীয় নাবিক নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ভারত জানিয়েছে, বর্তমানে উপসাগরীয় অঞ্চলে অন্তত ২২টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ৬১১ জন ভারতীয় নাবিক অবস্থান করছেন। দেশটির এক সূত্রের দাবি, এসব জাহাজের মধ্যে ছয়টি এলপিজি বহন করছে। ভারতের মোট এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’, ‘আল জাফজিয়া’ এবং ‘স্টেলার রুবি’ নামের তিনটি ট্যাংকার জব্দ করেছে। অভিযোগ, তারা নিজেদের পরিচয় ও চলাচলের তথ্য গোপন বা পরিবর্তন করেছে এবং অবৈধ ‘শিপ-টু-শিপ’ পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিল। ‘স্টেলার রুবি’ ইরানি পতাকাবাহী, অন্য দুটি যথাক্রমে নিকারাগুয়া ও মালির পতাকাবাহী।

১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় কোস্ট গার্ডের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ‘অ্যাসফাল্ট স্টার’ ভারী জ্বালানি তেল পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং সেই তেল ‘আল জাফজিয়া’-তে স্থানান্তর করা হয়, যা পরে ‘স্টেলার রুবি’-তে বিটুমেন সরবরাহ করে।

বিজ্ঞাপন

জব্দের সময় ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির বরাত দিয়ে জানায়, জাহাজ তিনটির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ অনুযায়ী ইরানি তেল পরিবহনে সহায়তাকারী একটি জাহাজবহরের পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়টার্সকে জানান, তিনি তিনটি জাহাজেরই পরামর্শক ছিলেন এবং কোনো অনিয়ম হয়নি। তার দাবি, জাহাজগুলো বিটুমেন পরিবহন করছিল এবং ৪০ দিন ধরে আটকে আছে। আলোচনার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: রয়টার্স

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD