Logo

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামাতে হঠাৎ সক্রিয় পাকিস্তান, নেপথ্যে কী?

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ মার্চ, ২০২৬, ১৮:৩২
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ থামাতে হঠাৎ সক্রিয় পাকিস্তান, নেপথ্যে কী?
ছবি: সংগৃহীত

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ানোর পর কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের নাম বারবার সামনে আসছে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলামাবাদ এ সংকটে সক্রিয়ভাবে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখিয়েছে। গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনায় পাকিস্তান নিজেকে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে।

প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে, এমনকি সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপের মাধ্যমে ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন

কিছু সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে ইসলামাবাদে সম্ভাব্য আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতিও পাকিস্তান বিবেচনা করছে।

তবে ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক ভালি নাসর মনে করেন, সৌদি আরবের সম্পৃক্ততা ছাড়া পাকিস্তানের বড় কোনো কূটনৈতিক উদ্যোগ এগোনোর সম্ভাবনা কম। তার ভাষায়, রিয়াদের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছাড়া ইসলামাবাদের ভূমিকা কার্যকর হবে না।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হওয়া একেবারে অস্বাভাবিক নয়। তার মতে, গত বছর উচ্চপর্যায়ের পাক-ইরান বৈঠক হয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গেও ইসলামাবাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের কূটনৈতিক স্বার্থ দেখভাল করে থাকে।

অন্যান্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক ও মিশরের পাশাপাশি পাকিস্তানও যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে সক্রিয় দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে।

ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পাকিস্তান ও তুরস্ক—উভয়েরই ইরানের সঙ্গে সীমান্ত থাকায় এই সংঘাত তাদের নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে শরণার্থী সংকটের ঝুঁকিও রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মিশরের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। আরব বিশ্বের বড় দেশ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা কয়েকটি রাষ্ট্রের মধ্যে অন্যতম হওয়ায় কায়রো কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত এখন দীর্ঘস্থায়ী ও বিস্তৃত রূপ নিচ্ছে। সামরিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটেই তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতার আলোচনা আবার গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে, সামরিক সংঘাত যত গভীর হচ্ছে, কূটনৈতিক বিকল্পও তত সীমিত হয়ে আসছে—আর এ কারণেই পাকিস্তানের সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সূত্র: ডন

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD