সন্তানের চেহারার সাথে মিল নেই বাবা-মার, আদালতে দম্পত্তি

ভারতের গুরগাঁওয়ে আইভিএফ পদ্ধতিতে সন্তান জন্মের পর এক দম্পতির জীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। ডিএনএ পরীক্ষায় দেখা গেছে, তাদের নবজাতক যমজ কন্যাশিশুর সঙ্গে বাবা-মায়ের কোনো জৈবিক সম্পর্ক নেই।
বিজ্ঞাপন
৪১ বছর বয়সী রাহুল রাঠোর ও ৩৯ বছর বয়সী মীনু রাঠোরের আগে থেকেই দুই কন্যাসন্তান রয়েছে। পরিবারে নতুন সদস্য আনার আশায় তারা আইভিএফ চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মীনু যমজ কন্যাশিশুর জন্ম দেন। তবে জন্মের পর থেকেই শিশু দুটির শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে দম্পতির মনে সন্দেহ দেখা দেয়। তাদের দাবি, শিশুদের চেহারার সঙ্গে পরিবারের কারও কোনো মিল পাওয়া যাচ্ছিল না।
বিজ্ঞাপন
পরে দুটি পৃথক পরীক্ষাগারে ডিএনএ পরীক্ষা করানো হলে জানা যায়, যমজ শিশু দুটির সঙ্গে রাহুল বা মীনুর কোনো জৈবিক সম্পর্ক নেই। এমনকি দুই শিশুর মধ্যেও পারস্পরিক রক্তের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
মীনু রাঠোর বলেন, তিনি নয় মাস শিশু দুটিকে গর্ভে ধারণ করেছেন, কিন্তু তারা আসলে কার সন্তান—সেটি জানতে চান।
ঘটনার পর দম্পতি দিল্লির একটি আইভিএফ হাসপাতালের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হন। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসা প্রক্রিয়ার সময় ভ্রূণ অদলবদল হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত মার্চে দিল্লির একটি আদালত এ ঘটনায় মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, এটি কেবল চিকিৎসাগত ভুলের ঘটনা নয়; এর সঙ্গে শিশু পাচার বা অপহরণের মতো গুরুতর অপরাধের বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল দাবি করেছে, ডোনার ভ্রূণ ব্যবহারের বিষয়ে দম্পতির সম্মতি ছিল। তবে রাহুল ও মীনু এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিজ্ঞাপন
পরে হাসপাতালের করা আপিল খারিজ করে আদালত তদন্ত অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালের বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।
সবকিছুর পরও শিশু দুটিকে নিজেদের সন্তান হিসেবেই লালন-পালন করছেন রাহুল ও মীনু। রাহুল বলেন, প্রকৃত অভিভাবকদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শিশু দুটিকে নিজের সন্তান হিসেবেই বড় করবেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
দম্পতির একমাত্র চাওয়া—তারা জানতে চান, যাদের লালন-পালন করছেন, সেই শিশু দুটির প্রকৃত পরিচয় কী।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।








