হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন অবকাঠামো গড়ছে আমিরাত

আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে নতুন পাইপলাইন, বন্দর ও রেল অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী থানি আল জেইউদি এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই আমিরাতের লক্ষ্য। এ উদ্দেশ্যে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর উন্নয়ন ও বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও আমিরাত এ বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত নয়। দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, প্রণালি পুনরায় চালু হলেও ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত বা ফি আরোপের ঝুঁকি থেকে যেতে পারে।
বিজ্ঞাপন
পারস্য উপসাগরের ভেতরের দেশগুলোর তুলনায় আমিরাত কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর হরমুজ প্রণালির বাইরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় এসব বন্দর ব্যবহার করে তেল ও গ্যাস রপ্তানি অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছিল দেশটি।
থানি আল জেইউদি বলেন, হরমুজ খোলা থাকুক বা না থাকুক, বিকল্প অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলবে। দীর্ঘমেয়াদে প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানোই তাদের কৌশলগত লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযুক্ত করেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে সম্পন্ন হয়। ফলে এ অঞ্চলে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
সংঘাতের সময় আমিরাতের পূর্বাঞ্চলীয় ফুজাইরাহ বন্দর দিয়ে তেল রপ্তানির জন্য একটি পাইপলাইন ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন সেই নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণ করে দিব্বা ও খোর ফাক্কান বন্দর পর্যন্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এসব বন্দরের আধুনিকায়ন কাজও শুরু হবে।
মন্ত্রী জানান, পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে তেল ও গ্যাস পরিবহনের জন্য অন্তত দুটি নতুন পাইপলাইন এবং একটি রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ হবে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে আমদানি কার্যক্রমে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বন্দর জেবেল আলীর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল আমিরাত। তবে ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একটি অংশ পূর্বাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে স্থানান্তরের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন থানি আল জেইউদি।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাত, অবকাঠামোগত নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য রুটে অনিশ্চয়তার কারণে আমিরাত তার কৌশলগত অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে। নতুন অবকাঠামো পরিকল্পনা সেই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলেরই অংশ।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: ব্লুমবার্গ, ফার্স্টপোস্ট








