আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপ চায় মোদী সরকার, শর্ত দিল সিজেপি

দিল্লিতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নফাঁস এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে চলমান আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থী ও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে আলোচনায় বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। সরকারের দাবি, বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পর্যন্ত চার দফা আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত।
বিজ্ঞাপন
তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে তারা বৈঠকে অংশ নেবেন না। সংলাপ হলে তা যন্তর মন্তরের আন্দোলনস্থল অথবা উভয় পক্ষের সম্মত কোনো নিরপেক্ষ স্থানে হতে হবে।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানান, বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর থেকেই আন্দোলনকারীদের কাছে ধারাবাহিকভাবে চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সুবিধাজনক সময় ও আলোচ্য বিষয় অনুযায়ী সংলাপে বসতে সরকার প্রস্তুত।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য বৈঠকে বিজেপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে. পি. নাড্ডাও অংশ নেবেন। তার কার্যালয় বা সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য অহংকারের লড়াই নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা।
মন্ত্রীর বাসভবনে নয়, নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনার দাবি
সরকারের এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, কোনো মন্ত্রীর বাসভবন বা দপ্তরে গিয়ে তারা আলোচনা করবেন না।
বিজ্ঞাপন
তার ভাষ্য, আন্দোলনের কেন্দ্র এখন যন্তর মন্তর। সরকার যদি সত্যিই সংলাপ চায়, তবে মন্ত্রীদের সেখানেই আসতে হবে। তবে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা থাকলে কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনায় বসতে তাদের আপত্তি নেই।
সৌরভ দাস বলেন, তারা শুরু থেকেই সংলাপের পক্ষে। তবে আলোচনার আগে সরকারের কাছ থেকে একটি সুস্পষ্ট নিশ্চয়তা চান, যাতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারও বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, আন্দোলন এখন দিল্লির গণ্ডি পেরিয়ে বিহার, গোয়া, মুম্বাই ও রাজস্থানসহ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি জাতীয় পর্যায়ের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বুধবারও সিজেপির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা একই অবস্থান তুলে ধরে বলেন, নিরপেক্ষ স্থান বা যন্তর মন্তরে আলোচনা হতে পারে, তবে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি থেকে তারা সরে আসবেন না।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, সরকার একদিকে সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে।
মোদির ঘোষণা, মেট্রো স্টেশন বন্ধ
বিজ্ঞাপন
সংলাপের উদ্যোগের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে পার্লামেন্টমুখী মিছিলের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লির ১৭টি মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীরা কয়েক ঘণ্টা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়েন। পরে বিকেলের দিকে স্টেশনগুলো আবার চালু করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: এনডিটিভি








