Logo

তরুণদের বোকা বানানো যাবে না, রাহুল গান্ধীকে ওয়াংচুকের স্ত্রী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৩ জুলাই, ২০২৬, ২০:১৬
তরুণদের বোকা বানানো যাবে না, রাহুল গান্ধীকে ওয়াংচুকের স্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও দলীয় নেতাদের আকস্মিক বিক্ষোভ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করেছেন পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও শিক্ষক সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অ্যাংমো। প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে রাহুলের এই কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি বলেন, ২১ জুলাইয়ের ওই বিক্ষোভ ছিল মূলত রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা। তার মতে, রাজনৈতিক কর্মসূচি না করে কংগ্রেস নেতাদের সরাসরি যন্তর মন্তরে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনীতিক সোনম ওয়াংচুকের জনপ্রিয়তাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইছেন। তবে বর্তমান প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষকে আর সহজে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

এদিকে, গত সপ্তাহে যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পরও হাসপাতালেই অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন সোনম ওয়াংচুক। বৃহস্পতিবার তার অনশন ২৬তম দিনে পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

গীতাঞ্জলি অ্যাংমোর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভে আন্তরিকতার অভাব ছিল। তিনি বলেন, এটি এখন সচেতন ভারতের সময়। মানুষ ও তরুণরা বুঝতে পারে কে আন্তরিক আর কে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছে। তাই লোক দেখানো পদক্ষেপে আর কেউ বিভ্রান্ত হবে না।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের সংসদমুখী পদযাত্রায় পুলিশের অভিযানের প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। এ সময় রাহুলকে আটক করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনায় তার নাক দিয়ে রক্ত পড়ার ঘটনাও ঘটে। পরে কংগ্রেস এ ঘটনাকে প্রশাসনিক জবাবদিহিতার ইস্যু হিসেবে তুলে ধরে।

বিজ্ঞাপন

আন্দোলনকে ‘অরাজনৈতিক’ দাবি

গীতাঞ্জলি অ্যাংমো বলেন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বাধীন শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন রাজনৈতিক নয়। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা যে, প্রতীকী কর্মসূচি দিয়ে জনগণকে আর সন্তুষ্ট করা যাবে না।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শেভনিং স্কলার গীতাঞ্জলি বলেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো সরকারি বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। তাদের কাছে সংসদই সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান এবং তারা চান শিক্ষা ইস্যুকে জাতীয় অগ্রাধিকারের জায়গায় নেওয়া হোক।

বিজ্ঞাপন

তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সাধারণ নাগরিক হিসেবে যে কেউ চাইলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে পারেন।

ওয়াংচুকের নতুন শর্ত

গত ১৮ জুলাই যন্তর মন্তর থেকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই সোনম ওয়াংচুকের পাশে রয়েছেন তার স্ত্রী। আদালতের অনুমতির পর তাকে দিল্লির একটি সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

অনশন প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে ওয়াংচুক সরকারের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছেন, ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে যেন নতুন করে মামলা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়।

তবে তার সর্বশেষ দাবির তালিকায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়টি আর নেই। এ কারণে অনেকেই মনে করছেন, আন্দোলনের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তা এসেছে। ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে আলোচনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD