যুদ্ধে ইসরায়েল খুবই দুর্বল প্রতিপক্ষ: আইআরজিসি

ইসরায়েলের এককভাবে ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা নেই বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়াতেই পারত না। তিনি ইসরায়েলকে ওয়াশিংটন ও পশ্চিমাদের ‘প্রক্সি বাহিনী’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞাপন
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির উপ-রাজনৈতিক প্রধান জাভানি বলেন, সম্প্রতি শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের নিয়োগ ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া কমান্ডারদের সবাই ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ এবং শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কমান্ডার নিহত হওয়ার পর তারা যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
জাভানির দাবি, আগের সংঘাতটি শত্রুপক্ষের ভুল হিসাবের কারণে শুরু হলেও তারা নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ১২ দিনের ওই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন পাওয়ার পর ইসরায়েল সংঘাতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সাক্ষাৎকারে বাসিজের প্রধানের নিয়োগ আদেশে ব্যবহৃত ‘গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক’ এবং ‘প্রত্যেক ইরানিই একজন বাসিজ’—এ ধরনের বক্তব্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জাভানি। তার মতে, এসব বক্তব্য ইরানের ভবিষ্যৎ প্রতিরক্ষা কৌশলের দিক নির্দেশ করে।
তিনি বলেন, মেজর জেনারেল আহমাদ ভাহিদির নেতৃত্বাধীন আইআরজিসিকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধক্ষমতা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলে এমন পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজন হলে প্রতিরক্ষামূলক অভিযান আক্রমণাত্মক রূপ নিতে পারে।
জাভানির ভাষ্য, ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে বর্তমানে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে থাকায় এবং শত্রুপক্ষ সুযোগ খুঁজছে বলে তাদের নতুন সামরিক নিয়োগ ও সংশ্লিষ্ট বার্তাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক কোনো পদক্ষেপ নিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলার সুযোগ শত্রুপক্ষের থাকবে না। বরং ভবিষ্যতে কৌশলগত আকস্মিকতার আশঙ্কা তাদেরই করতে হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনেভায় আলোচনা চলার সময় ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলা শুরু হয়। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে প্রায় ১০০টি হামলা চালায়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
পরবর্তীতে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল তা কার্যকর হয়। এরপর ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৩ এপ্রিল হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়।
সর্বশেষ ইরানের ১৪ দফা শর্তের ভিত্তিতে ১৭ জুন দুই পক্ষ একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে একমত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, ৬০ দিনের জন্য আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ ও ৪৯৬ জন নারী। জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত এবং ২৬ জন নিহত হন।
বিজ্ঞাপন
সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি








