Logo

নারীকে নিয়ন্ত্রণ করাই কি সংস্কৃতি: রাহুল গান্ধী

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৯:৩৫
নারীকে নিয়ন্ত্রণ করাই কি সংস্কৃতি: রাহুল গান্ধী
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিহারের জামুইয়ে কোচিং থেকে ফেরার পথে দশম শ্রেণির এক নাবালিকা ও তার সহপাঠীকে আটকে মারধর ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। ঘটনাটিকে ভয়াবহ আখ্যা দিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

বিজ্ঞাপন

রাহুল গান্ধী বলেছেন, এ ধরনের আচরণ করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, নারীদের ওপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণকে যদি ভুলভাবে সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাহলে দুষ্কৃতিকারীরা নিজেদেরই আইন মনে করতে শুরু করে। তিনি এটিকে অন্ধ পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ বলেও মন্তব্য করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, কোচিং শেষে দশম শ্রেণির দুই সহপাঠী স্কুটারে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল। ফেরার পথে একদল যুবক তাদের পথ আটকায়। পরে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও মারধরের অভিযোগ ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নাবালক ছাত্রটির সঙ্গে মারধর এবং নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জামুই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিকভাবে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনাটির তদন্তে জামুইয়ের উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি নাবালকদের মুখ ও পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩টি ফেসবুক, ১২টি ইনস্টাগ্রাম এবং ৭টি এক্স অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ভিডিও সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করে এমন ভিডিও ছড়ানোও আইনত অপরাধ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাবালিকা ও তার সহপাঠীর পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD