Logo

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারতকেই উদ্যোগী হতে হবে

profile picture
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫:৫৫
ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারতকেই উদ্যোগী হতে হবে
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক এখনো নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে স্বাভাবিক করতে ভারতের পক্ষ থেকেই কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করেন ভারতীয় সাংবাদিক ও বিশ্লেষক পারুল চন্দ্রা।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডেকান হেরাল্ডে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি গঠনমূলক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের পক্ষ থেকেই সম্ভাব্য সফর নিয়ে যোগাযোগ চলছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সফরের পরিবেশ পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে অনুকূল হলে তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও বলেছেন, সফরের জন্য ভারতের আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে এবং সময় হলে তা অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পারুল চন্দ্রার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভৌগোলিক নৈকট্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণেও বাংলাদেশ ও ভারতের পারস্পরিক সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। ফলে দীর্ঘদিনের দূরত্ব দুই দেশের জন্যই নানা কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন

চীনের সঙ্গে ঢাকার ঘনিষ্ঠতা

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্বও সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনায় এসেছে। পারুল চন্দ্রা মনে করেন, ঢাকা-বেইজিং সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

গত জুনে তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বিশ্লেষণে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রবণতা ভারতের জন্য নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে।

বিজ্ঞাপন

আঞ্চলিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের যোগাযোগ বাড়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্কের উন্নয়ন দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত হিসাবকে প্রভাবিত করতে পারে।

শেখ হাসিনাকে ঘিরে জটিলতা

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের অন্যতম বড় অমীমাংসিত বিষয় হিসেবে পারুল চন্দ্রা শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন। বাংলাদেশ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে আসছে, আর ভারত জানিয়েছে বিষয়টি তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে শেখ হাসিনার একটি গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনাও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করে। ঢাকার পক্ষ থেকে এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়।

ভারতীয় বিশ্লেষকের মতে, শেখ হাসিনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিষয়টি ঢাকা-দিল্লির পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য ক্ষেত্রকে এই একটি ইস্যুর কারণে দীর্ঘদিন আটকে রাখা উচিত নয় বলেও তিনি মত দিয়েছেন।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও ভারত-সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পারুল চন্দ্রা। তাঁর বিশ্লেষণে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কোনো উদ্যোগ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে, সেটিও সরকারের বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।

ভারতের দিক থেকেও রাজনৈতিক বক্তব্য ও বাংলাদেশি অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে ভারতে বাংলাদেশিদের নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য ঢাকায় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে বলে তাঁর মতামতে উঠে এসেছে।

কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে

বিজ্ঞাপন

টানাপোড়েনের মধ্যেও দুই দেশ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। ভারত ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকের পর হুমায়ুন কবির জানান, দুই দেশের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতও সম্পর্ককে ‘ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী’ করার বিষয়ে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত।

বিজ্ঞাপন

গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির নবায়নও রয়েছে। ১৯৯৬ সালের চুক্তিটির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। ফলে পানি বণ্টন, বাণিজ্য ও সীমান্তসহ বিভিন্ন ইস্যুর পাশাপাশি এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সব মিলিয়ে, পারুল চন্দ্রার বিশ্লেষণে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিতে পারস্পরিক স্বার্থ ও আস্থার ভিত্তিতে রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি; দুই দেশের পক্ষ থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD