সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ বাড়ছে

সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রত্যাশিত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে নতুন পে স্কেল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন বেতন কাঠামোর সব বিষয় ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এখন শুধু মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
বিজ্ঞাপন
এর আগে গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশন ঘোষণার বিষয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। কমিশনের কাজ শেষ হওয়ার পর সুপারিশ মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো কার্যকর হলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে বর্তমান বেতন কাঠামোর তুলনায় সর্বনিম্ন বেতন দ্বিগুণ এবং সর্বোচ্চ বেতন ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য।
বিজ্ঞাপন
নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমান বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবি করে আসছেন সরকারি কর্মচারীরা।
মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদিত হলে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম আরও এগিয়ে যাবে। এরপর প্রজ্ঞাপন জারি ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে তাদের আয় কিছুটা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো, বাস্তবায়নের তারিখ এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রিসভার অনুমোদন ও সরকারি প্রজ্ঞাপন জারির পরই বিস্তারিত জানা যাবে।








