Logo

ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচন মানসম্মত করতে চায় ইসি: সিইসি

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:৫৬
ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচন মানসম্মত করতে চায় ইসি: সিইসি
সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন | ফাইল ছবি

শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচনে একই মান বজায় রাখার টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে ন্যূনতম মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও উন্নত নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করবে কমিশন। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মান বজায় রাখতে ইসি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, “শুধু একটা ভালো নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে সবগুলো নির্বাচন সেই একই মানদণ্ডের হয়, সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনব্যবস্থা এককালীন কোনো আয়োজন নয়। একটি ভালো নির্বাচন করেই কমিশনের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং এমন একটি নির্বাচনি সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতের প্রতিটি নির্বাচন একই মান বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হয়।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতায় স্থানীয় নির্বাচন

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও একই মানদণ্ডে আয়োজনের চেষ্টা করবে কমিশন। সম্ভব হলে আরও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সব অংশীজনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের অঙ্গীকারই কমিশনকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সহায়তা করেছে বলে জানান সিইসি। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কারাবন্দীদের ভোট দেওয়ার সুযোগও তৈরি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সিইসি বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কমিশনের অঙ্গীকারে কোনো ঘাটতি ছিল না।

আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়েও আশাবাদী তিনি। তাঁর ভাষ্য, কমিশনের ওপর কোনো পক্ষের চাপ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও জরুরি।

নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। তাই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

সিইসি বলেন, “রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা খুবই দরকার। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই নভেম্বর মাসের মধ্যেই তাদের সঙ্গে বসব আমরা।”

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুস্থ ও টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

ইউপি নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, আচরণবিধি প্রয়োগে কঠোরতা

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানান সিইসি। ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন হতে পারে বলে জানান তিনি।

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে। এ কারণে আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারিও জোরদার করা হবে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত ক্যামেরাও থাকবে। ফলে সহিংসতা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তা রেকর্ডে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

সিইসি বলেন, “আচরণবিধি আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ভোটার তালিকা সংশোধনে আস্থা ফেরানোর উদ্যোগ

বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিইসি।

২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর কমিশনের প্রাথমিক মূল্যায়নে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন ও সামগ্রিক নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন ঘিরে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সিইসি বলেন, মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা, নির্বাচন কমিশনকে আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কাজে প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিইসির মতে, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

স্বচ্ছতা ও সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে গুরুত্ব

ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে মান বজায় রাখতে মানুষের আস্থা ধরে রাখা, প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সিইসি।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ এমন হতে হবে, যাতে মানুষ নির্বাচনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং অনিয়ম বা গোপনীয়তার সুযোগ না থাকে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও এই সহযোগিতা কমিশনকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনেও সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কমিশনের দরজা উন্মুক্ত। তাঁরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।

জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র কমিশন থেকে দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রেস ক্লাবের সঙ্গে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা পরিচয়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।

অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও কালো টাকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা জানিয়েছেন সিইসি।

তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনি অনিয়মের প্রতিকার যেন স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

কালো টাকা ব্যবহার ও ভোট কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিইসি আরও বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সবাই নিয়ম মেনে নির্বাচনি মাঠে থাকলে অনিয়ম প্রতিরোধ করা কমিশনের জন্য সহজ হবে।

১০ মাস থেকে এক বছরে শেষ হতে পারে স্থানীয় নির্বাচন

দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি। ইতিহাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে এ সময়ের হিসাব করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করেন। নির্বাচন না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কার্যক্রমের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রয়োজন হয়। এ কারণেও ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

সিইসি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসএসসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সময়সূচি এবং বর্ষা মৌসুমে সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনি সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকবে না বলেও জানান তিনি।

নারী প্রার্থী বাড়াতে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সিইসি। তাঁর মতে, নারী ভোটার থাকলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তুলনামূলক কঠিন।

পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নিরুৎসাহিত করা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক প্রচারণা নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।

আরও পড়ুন

এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচারের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।

সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য আইনে রাখা হয়েছে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ

তরুণদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে ভোটার হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানিয়েছেন সিইসি।

তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। আগে বছরের ১ জানুয়ারিকে ভিত্তি ধরে বয়স গণনা করা হলেও এবার নতুন সুযোগের ফলে আরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।

তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সবার সহযোগিতায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে সব অংশীজনের সহযোগিতা চেয়েছেন সিইসি। নির্বাচনে অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে কমিশন সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।

সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সবার সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD