অস্ত্রসহ জিসান গ্রুপের তিন সদস্য গ্রেপ্তার, ব্যবহার করতেন ওয়াকিটকি

রাজধানীর খিলগাঁও, গোড়ান ও মালিবাগ এলাকায় সক্রিয় কথিত জিসান গ্রুপের তিন সদস্যকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি এবং ওয়াকিটকি সেটসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৩। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, মোবাইল ফোন ব্যবহার এড়িয়ে ওয়াকিটকির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রেখে তারা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহজাহানপুরে র্যাব-৩ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন স্বাধীন আহমেদ রনি (৩৫), সাজ্জাদ হোসেন সোহাগ (৩০) এবং মেহেদী হাসান (২৪)।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
র্যাব জানায়, সম্প্রতি খিলগাঁও গভর্নমেন্ট কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে একটি টাউন হল সভার আয়োজন করা হয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং র্যাব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা জোরদার করাই ছিল এ সভার উদ্দেশ্য। ওই সভায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্বাধীন আহমেদ রনির অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয় র্যাব সদস্যরা।
বিজ্ঞাপন
এরপর মালিবাগ এলাকায় রনির ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। অভিযানকালে তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল, একটি চাইনিজ চাপাতি, একটি সুইচ গিয়ার, তিনটি ওয়াকিটকি সেট এবং দুটি ওয়াকিটকির চার্জার উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, রনিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পৃথক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সাজ্জাদ হোসেন সোহাগ ও মেহেদী হাসানকে। তাদের বাসা থেকে তিনটি ৭.৬৫ মিলিমিটার ক্যালিবারের বিদেশি পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), পাঁচটি ম্যাগাজিন এবং ৩৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বাহিনীটি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে জিসান গ্রুপের হয়ে খিলগাঁও, মালিবাগ ও গোড়ান এলাকায় বিভিন্ন নির্মাণাধীন প্রকল্প এবং নির্মাণ ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করতেন।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি এড়াতে তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার না করে ওয়াকিটকির মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতেন। এতে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে পড়ত।
র্যাব-৩-এর অধিনায়ক বলেন, স্থানীয় জনগণের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে এ ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে র্যাব।








